Surah Al An'am Tafseer
Tafseer of Al-An'am : 100
Saheeh International
But they have attributed to Allah partners - the jinn, while He has created them - and have fabricated for Him sons and daughters. Exalted is He and high above what they describe
Tafsir Fathul Mazid
Tafseer 'Tafsir Fathul Mazid' (BN)
১০০-১০৩ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা‘আলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, মক্কা ও অন্যান্য এলাকার মুশরিকগণ জিন ও ফেরেশতাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার অংশীদার বানিয়ে তাদের ইবাদত করে, তাদেরকে ডাকে অথচ তারা আল্লাহ তা‘আলার সৃষ্ট জীব, তাদের মধ্যে স্রষ্টা হওয়ার ও ইবাদত পাওয়ার কোন বৈশিষ্ট্যই নেই।
প্রশ্ন হতে পারে- মুশরিকগণ তো মূর্তি পূজা করে; তাহলে কিভাবে তারা জিনদের ইবাদত করল? উত্তর হচ্ছে, তারা জিনদের নির্দেশে মূর্তি পূজা করে আর প্রতিটি মূর্তির সাথে জিন থাকে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(إِنْ يَّدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِه۪ٓ إِلَّآ إِنٰثًاﺆ وَإِنْ يَّدْعُوْنَ إِلَّا شَيْطٰنًا مَّرِيْدًا)
“তাঁর পরিবর্তে তারা দেবীরই পূজা করে এবং বিদ্রোহী শয়তানেরই পূজা করে”(সূরা নিসা ৪:১১৭)
ইবরাহীম (আঃ) তার পিতাকে বলেছেন:
(يٰٓأَبَتِ لَا تَعْبُدِ الشَّيْطٰنَ ﺚإِنَّ الشَّيْطٰنَ كَانَ لِلرَّحْمٰنِ عَصِيًّا)
“হে আমার পিতা! শয়তানের ইবাদত কর না, নিশ্চয়ই শয়তান দয়ালু আল্লাহর অবাধ্য। (সূরা মারইয়াম ১৯:৪৪)
আমরা জানি, ইবরাহীম (আঃ)-এর পিতা মূর্তি পূজা করতেন। অথচ এখানে শয়তানের ইবাদত থেকে নিষেধ করা হচ্ছে। এর মানে হল প্রত্যেক মূতির সাথে জিন শয়তান বিদ্যমান।
এ সকল মুশরিকগণ আল্লাহ তা‘আলার ব্যাপারে অপবাদ দিয়ে বলে, আল্লাহ তা‘আলার নাকি সন্তান রয়েছে। যেমন বলে, ঈসা (আঃ) আল্লাহ তা‘আলার ছেলে, ফেরেশতাগণ আল্লাহ তা‘আলার মেয়ে ইত্যাদি।
আল্লাহ তা‘আলা এসব থেকে ঊর্ধ্বে। তিনি বলেন:
(وَّأَنَّه۫ تَعَالٰي جَدُّ رَبِّنَا مَا اتَّخَذَ صَاحِبَةً وَّلَا وَلَدًا)
“এবং নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালকের মর্যাদা অতি উচ্চ; তিনি কোন স্ত্রী এবং কোন সন্তান গ্রহণ করেননি।” (সূরা জিন ৭২:৩)
(أَنّٰي يَكُوْنُ لَه وَلَد)
‘তাঁর সন্তান হবে কিরূপে?’ অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার কিভাবে সন্তান হবে তাঁর তো কোন স্ত্রী নেই। যার স্ত্রী নেই তার সন্তান হবার কোন প্রশ্নই আসে না।
আল্লাহ তা‘আলা মানুষ সৃষ্টি করেছেন তিনটি পদ্ধতিতে: ১. পিতা-মাতা ছাড়াই; যেমন আদম (আঃ)। ২. পিতা-মাতার মাধ্যমে; যেমন আমরা। ৩. পিতা ছাড়া, মাতার দ্বারা; যেমন: ঈসা (আঃ)।
অতএব সন্তান হবার মাধ্যম দু’টি: ১. স্বামী-স্ত্রীর মিলন ২. আল্লাহ তা‘আলার অনুমতিতে মায়ের গর্ভে স্বামী ছাড়া। তাই স্ত্রী ছাড়া সন্তান জন্ম নিতে পারে না।
অতএব আল্লাহ তা‘আলা একক, তাঁর কোন স্ত্রী-সন্তান নেই। তিনি বাদে যা কিছু আছে সবই তাঁর সৃষ্টি, সবকিছু তার মুখাপেক্ষী। কেবল তিনিই অমুখাপেক্ষী। অতএব তিনিই একমাত্র ইবাদতের যোগ্য, সুতরাং কেবল তাঁরই ইবাদত করতে হবে।
(لَا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ)
“কোন দৃষ্টি তাঁকে বেষ্টন করতে পারবে না”এ ব্যাপারে সালাফদের কয়েকটি উক্তি রয়েছে।
১. দুনিয়াতে চর্মচোখে আল্লাহ তা‘আলাকে কেউ দেখতে পারে না। আখিরাতে শুধু মু’মিনরা দেখতে পাবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وُجُوْهٌ يَّوْمَئِذٍ نَّاضِرَةٌ إِلٰي رَبِّهَا نَاظِرَةٌ)
“কোন কোন মুখমণ্ডল সেদিন উজ্জ্বল হবে, তারা তাদের প্রতিপালকের দিকে তাকিয়ে থাকবে।”(সূরা কিয়ামাহ ৭৫:২২-২৩)
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(لِلَّذِيْنَ أَحْسَنُوا الْحُسْنٰي وَزِيَادَةٌ)
“যারা কল্যাণকর কাজ করে তাদের জন্য আছে কল্যাণ এবং আরও অধিক।”(সূরা ইউনুস ১০:২৬)
زِيَادَةٌ অর্থ হল আল্লাহ তা‘আলার দর্শন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে তেমনিভাবে দেখতে পাবে যেমনিভাবে পূর্ণিমার রাতে চাঁদকে দেখতে পাও। যা দেখতে তোমাদের কোন অসুবিধা হয় না। (তিরমিযী হা: ২৫৫৪, সহীহ) এটাই সঠিক মত। এটাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আক্বীদাহ। যদিও মু‘তাজিলারা বলে: দুনিয়া ও আখিরাতে কখনো আল্লাহ তা‘আলাকে দেখা সম্ভব নয়- এ কথা বাতিল। কারণ তা কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর বিপরীত।
(وَھُوَ یُدْرِکُ الْاَبْصَارَ)
‘তিনি সকল দৃষ্টিসমূহকে বেষ্টন করে আছেন’ অর্থাৎ
يحيط بها و يعلمها علي ماهي عليه
প্রত্যেক বস্তুকে তার স্বঅবস্থায় আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় দৃষ্টি ও জ্ঞান দ্বারা বেষ্টন করে আছেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ ط وَهُوَ اللَّطِيْفُ الْخَبِيْرُ)
“যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানেন না? তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবগত।”(সূরা মূলক ৬৭:১৪)
সুতরাং পরকালে মু’মিনরা আল্লাহ তা‘আলাকে দেখতে পাবে। পরকালে মু’মিনদের যা কিছু দেয়া হবে তন্মধ্যে আল্লাহ তা‘আলার দর্শন হবে সবচেয়ে বড় নেয়ামত।
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. এক শ্রেণির মানুষ রয়েছে যারা জিনের ইবাদত করে।
২. মূর্তি পূজা করা শয়তানের ইবাদতের নামান্তর।
৩. আল্লাহ তা‘আলা সকল অংশীস্থাপনকারীর অংশী থেকে ঊর্ধ্বে।
৪. দুনিয়াতে চর্মচোখে আল্লাহ তা‘আলাকে দেখা সম্ভব নয়, তবে পরকালে আল্লাহ তা‘আলাকে মু’মিনরা অবশ্যই দেখতে পাবে।
৫. আল্লাহ তা‘আলা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সবকিছু দেখেন এবং খবর রাখেন।
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Are You Sure you want to Delete Pin
“” ?
Add to Collection
Bookmark
Pins
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Audio Settings