Surah Al Fajr Tafseer
Tafseer of Al-Fajr : 20
Saheeh International
And you love wealth with immense love.
Tafsir Fathul Mazid
Tafseer 'Tafsir Fathul Mazid' (BN)
১৫-২০ নম্বর আয়াতের তাফসীর:
আলোচ্য আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা মানুষের একটি চিরাচরিত স্বভাবের কথা তুলে ধরেছেন যে, মানুষকে আল্লাহ তা‘আলা যখন সুখ-সাচ্ছন্দ্য দান করেন তখন আল্লাহ তা‘আলার ব্যাপারে সে ভাল ধারণা করে, পক্ষান্তরে মানুষ দুঃখ কষ্টে পতিত হলে আল্লাহ তা‘আলার ব্যাপারে খারাপ ধারণা পোষণ করে। মানুষকে যখন আল্লাহ তা‘আলা ধন-দৌলত ও সুখ-সাচ্ছন্দ্য দান করেন তখন মনে করে সে একজন আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্যশীল বান্দা যার কারণে দুনিয়াতে আল্লাহ তা‘আলা তাকে এসব দান করে সম্মানিত করেছেন। আবার দরিদ্রতায় পতিত হলে মনে মনে খারাপ ধারণা পোষণ করে, আসলে প্রকৃত ব্যাপার তা নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(أَيَحْسَبُوْنَ أَنَّمَا نُمِدُّهُمْ بِه۪ مِنْ مَّالٍ وَّبَنِيْنَ لا نُسَارِعُ لَهُمْ فِي الْخَيْرَاتِ ط بَلْ لَّا يَشْعُرُوْنَ)
“তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা সাহায্য করি। তাদের জন্য সকল প্রকার মঙ্গল ত্বরান্বিত করছি? না, তারা বুঝে না।” (সূরা মু’মিনূন ২৩ : ৫৫-৫৬)
মূলত সুখ-সাচ্ছন্দ্য, বালা-মসিবত ইত্যাদি দেওয়া হয় পরীক্ষা করার জন্য, কে অসচ্ছল অবস্থাতেও ঈমান নিয়ে অবিচল থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ الْمَوْتِ ط وَنَبْلُوْكُمْ بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً ط وَإِلَيْنَا تُرْجَعُوْنَ)
“জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে; আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভাল দ্বারা বিশেষভাবে পরীক্ষা করে থাকি এবং আমারই নিকট তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে।” (সূরা আম্বিয়া ২১ : ৩৫)
যদি মানুষ মু’মিন হয় তাহলে তার সুঃখ-দুখ সর্বাবস্থায়ই কল্যাণকর। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন : মু’মিনের ব্যাপারটাই আশ্চর্যজনক। তাদের প্রত্যেক কাজ কল্যাণ কর। যদি ভাল কিছু পায় তাহলে আল্লাহ তা‘আলার শুকরিয়া আদায় করে, এটা তার জন্য কল্যাণকর। আর যদি কোন বিপদে পতিত হয় তাহলে ধৈর্য ধারণ করেÑএটাও তার জন্য কল্যাণকর। (সহীহ মুসলিম হা. ২৯৯৯) আর যদি মু’মিন না হয় তাহলে দুনিয়ার সুখ-সাচ্ছন্দ্য তার জন্য ক্ষণিকের জন্য অবকাশ মাত্র, অতঃপর তাকে কঠিন আযাবে পতিত হতে হবে।
(كَلَّا بَلْ لَّا......)
অর্থাৎ তোমরা যেমন ধারণা করছ বিষয়টি তেমন না যে, ধন-সম্পদ পেলে সম্মানিত হয়ে গেলাম আর না পেলে অপমানিত হলাম। না, বরং তোমরা ইয়াতীমদের সাথে সদাচরণ কর না, তাদের হক আদায় কর না। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: সে ঘর সর্বোত্তম যে ঘরে ইয়াতীমদের সাথে ভাল ব্যবহার করা হয়। আর সে ঘর সবচেয়ে খারাপ যে ঘরে ইয়াতীমদের সাথে অসদাচরণ করা হয়। অতঃপর নাবী (সাঃ) দুই আঙ্গুল একত্র করে বললেন: আমি ও ইয়াতিমের দায়িত্বশীল ব্যক্তি জান্নাতে এভাবে পাশাপাশি থাকব। (সহীহ বুখারী হা. ৫৩০৪)
(وَتَأْكُلُوْنَ التُّرَاثَ....)
অর্থাৎ ইয়াতীমদের মীরাস অন্যায়ভাবে সম্পূর্ণ তোমরা ভক্ষণ করে থাক। আয়াতে ইয়াতীমদের মীরাসের কথা উল্লেখ থাকলেও সকল প্রকার উত্তরাধিকার এতে শামিল। যারা ওয়ারীসদারের প্রাপ্য ওয়ারিস থেকে বঞ্চিত করে তাদের জন্যও এ ধমক। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: যে ব্যক্তি কারো এক বিঘত জমিন অন্যায়ভাবে দখল করল কিয়ামতের দিন তাকে সাত তবক জমিনের বেড়ী পরানো হবে। (সহীহ বুখারী হা. ৩১৯৮, সহীহ মুসলিম হা. ১৬১০)
অর্থ প্রসিদ্ধ তাবেয়ী সুদ্দী (রহঃ) বলেন : أكلا شديدا বা দারুনভাবে ভোগ করা। ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেন : হারাম-হালাল যেকোন পন্থায় হোক হাসিল করা।
جَمًّا শব্দটি كثير বা অত্যধিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ প্রাচুর্যের লালসা তাদেরকে এমন বানিয়ে নিয়েছে যে, তারা সম্পদ থাকা-না থাকাই সম্মানের কারণ হিসাবে বিবেচনা করছে। রাসূলুল্লাহ বলেছেন : আদম সন্তানের যদি একটি পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকে তাহলে তারা চাইবে যদি এরূপ দুটি স্বর্ণের পাহাড় হত। মূলত তাদের মুখ মাটি ছাড়া কিছুই ভরতে পারবে না। (সহীহ বুখারী হা. ৬৪৩৯)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. মানুষের চিরাচরিত স্বভাবের কথা জানতে পারলাম যা অব্যশ্যই বর্জনীয়।
২. ইয়াতিমদের দেখাশুনার গুরুত্ব ও ফযীলত জানতে পারলাম।
৩. সম্পদের প্রতি মানুষের মোহ কত বেশি তাও জানতে পারলাম।
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Are You Sure you want to Delete Pin
“” ?
Add to Collection
Bookmark
Pins
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Audio Settings