Surah Al A'raf Tafseer
Tafseer of Al-A'raf : 44
Saheeh International
And the companions of Paradise will call out to the companions of the Fire, "We have already found what our Lord promised us to be true. Have you found what your Lord promised to be true?" They will say, "Yes." Then an announcer will announce among them, "The curse of Allah shall be upon the wrongdoers."
Tafsir Fathul Mazid
Tafseer 'Tafsir Fathul Mazid' (BN)
৪৪-৫৩ নং আয়াতের তাফসীর:
এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা তিন শ্রেণির মানুষের কথা তুলে ধরেছেন। এক শ্রেণি জান্নাতবাসী, এক শ্রেণি জাহান্নামবাসী এবং এক শ্রেণি আ‘রাফবাসী। প্রথমেই জান্নাতবাসীদের কথা দিয়ে শুরু করেছেন যারা জাহান্নামীদের সম্বোধন করে বলবে, আমরা আমাদের প্রতিপালকের ওয়াদা যথাযথভাবে পেয়েছি, তোমরা কি পেয়েছ? উত্তরে জাহান্নামবাসীরা বলবে, হ্যাঁ। তখন এক ঘোষক ঘোষণা করে দিবে যে, আল্লাহ তা‘আলার লা‘নত জালিমদের ওপর। যালেম কারা তার পরিচয় দিতে গিয়ে পরের আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(الَّذِيْنَ يَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِيْلِ اللّٰهِ وَيَبْغُوْنَهَا عِوَجًا ج وَهُمْ بِالْاٰخِرَةِ كٰفِرُوْنَ)
‘যারা ‘আল্লাহর পথে বাধা প্রদান করে এবং তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করে মূলত তারাই আখিরাত সম্বন্ধে অবিশ্বাসী।’ (সূরা আ‘রাফ ৭:৪৫)
জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে একটি পর্দা থাকবে যার সম্পর্কে জাহান্নামীগণ জান্নাতে যেতে পারবে না।
ইবনু জারীর (আঃ) বলেন: এটা সেই প্রাচীর যার কথা আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(فَضُرِبَ بَيْنَهُمْ بِسُوْرٍ لَّه۫ بَابٌ ط بَاطِنُه۫ فِيْهِ الرَّحْمَةُ وَظَاهِرُه۫ مِنْ قِبَلِهِ الْعَذَابُ )
“অতঃপর উভয়ের মাঝামাঝি স্থাপিত হবে একটি প্রাচীর সেখানে একটি দরজা থাকবে, যার অভ্যন্তরে রহমত এবং বহির্ভাগে আযাব।” (সূরা হাদীদ ৫৭:১৩)
তারপর আল্লাহ তা‘আলা আ‘রাফবাসীদের কথা উল্লেখ করেছেন। আ‘রাফ হল জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী একটি জায়গার নাম। আ‘রাফবাসী কারা হবে এ নিয়ে মুফাসসিরদের মধ্যে মতানৈক্য বিদ্যমান। অধিকাংশ মুফাসসিরদের মতে এরা হবে সেসব লোক যাদের পূণ্য ও পাপ সমান হবে। এদের পূণ্যরাজি জাহান্নামে যেতে বাধা দেবে। আবার পাপরাশি জান্নাতে যেতে বাধা দেবে এভাবে আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে ফায়সালা না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবে। এ আ‘রাফবাসী জান্নাতী ও জাহান্নামী উভয় শ্রেণির লোকেদের চিনতে পারবে। এরা তারপর কী করবে এ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
(مَآ أَغْنٰي عَنْكُمْ جَمْعُكُمْ)
‘তোমাদের দল ও তোমাদের অহঙ্কার কোন কাজে আসল না।’ জাহান্নামবাসীদেরকে আ‘রাফবাসীগণ তাদের নিদর্শন দেখেই চিনতে পারবে। তারা নিজেদের দলবল এবং অন্যান্য জিনিসের ওপর যে অহঙ্কার প্রদর্শন করত সে ব্যাপারেই তাদের লক্ষ করে বলবে যে, অহঙ্কার তোমাদের কোন উপকারে এলো না।
অতঃপর তৃতীয় শ্রেণি জাহান্নামীদের কথা উল্লেখ করেছেন। তারা জান্নাতীদের আহ্বান করে জান্নাতের কিছু পানীয় ও খাদ্য সামগ্রী চাইবে কিন্তু জবাবে জান্নাতবাসীহণ বলবে: আল্লাহ তা‘আলা এসব কিছুকে কাফিরদের জন্য হারাম করে দিয়েছেন। সুতরাং বুঝা যাচ্ছে যারা দীন ইসলাম নিয়ে ঠাট্টা করবে, তাকে খেল-তামাশার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করবে তারা দুনিয়ার প্রতারণায় নিমজ্জিত, তারা কাফির। এ ধরণের লোকেদের অন্তরে যেহেতু আল্লাহ তা‘আলার ভয় নেই, ধর্ম সম্পর্কে কোন জ্ঞান নেই তাই তারা দীনের ব্যাপারে অশালীন কথাবার্তা বলতে এবং তা খেল-তামাশার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করতে কোন দ্বিধা সংকোচ করে না। হাদীসে এসেছে: কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা এ শ্রেণির লোকেদের বলবেন: আমি কি তোমাকে স্ত্রী ও সন্তানাদি দেইনি? তোমাকে মান-সম্মানে ধন্য করিনি? উট এবং ঘোড়া তোমার অধীনস্থ করে দেইনি? তুমি কি নেতৃত্ব দান করে মানুষের কাছ থেকে কর আদায় করতে না? সে বলবে: অবশ্যই করতাম। হে আল্লাহ! এ সবই সঠিক। মহান আল্লাহ তাকে জিজ্ঞাসা করবেন: আমার সাথে সাক্ষাত করতে হবে এ কথা কি তুমি বিশ্বাস করতে? সে বলবে, না। তখন মহান আল্লাহ বলবেন: যেভাবে তুমি আমাকে ভুলে ছিলে আজ আমিও তোমাকে ভুলে যাচ্ছি। (সহীহ মুসলিম হা: ২৯৬৮)
(فَصَّلْنٰهُ عَلٰي عِلْمٍ هُدًي وَّرَحْمَةً)
‘অবশ্যই আমি তাদেরকে দিয়েছিলাম এমন এক কিতাব যা পূর্ণ জ্ঞান দ্বারা বিশদ ব্যাখ্যা করেছিলাম’ অর্থাৎ জাহান্নামীদেরকে লক্ষ করে আল্লাহ তা‘আলা বলছেন: আমি তো আমার পূর্ণ জ্ঞানের আলোকে এমন কিতাব দিয়েছিলাম যাতে সৃষ্টি জীবের যা কিছু প্রয়োজন সবকিছুর বিশদ বর্ণনা ছিল, তার অনুসরণে হিদায়াত ছিল। কিন্তু তারা তা অনুসরণ করেনি, ফলে হিদায়াত থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
(هَلْ يَنْظُرُوْنَ إِلَّا تَأْوِيْلَه)
‘তারা কি শুধু তার পরিণামের প্রতীক্ষা করছে’ অর্থাৎ কাফিরদেরকে যে জান্নাত-জাহান্নাম ও শাস্তির ওয়াদা দেয়া হয়েছে তারা কেবল তারই অপেক্ষা করে; কিয়ামতের দিন সে ওয়াদার বাস্তবায়ন অবশ্যই দেখতে পাবে।
(فَهَلْ لَّنَا مِنْ شُفَعَا۬ءَ)
‘আমাদের কি এমন কোন সুপারিশকারী আছে’ এর তাফসীর পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুতরাং আমরা প্রথম শ্রেণি তথা জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত হবার চেষ্টা করব। আর সে জন্য দরকার সঠিক ঈমান ও সৎ আমল।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. জান্নাতীগণ জান্নাতে ও জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করার পরে কথোপকথন করবে।
২. আল্লাহ তা‘আলার পথে বাধা দেয়ার পরিণাম ভয়াবহ।
৩. আ‘রাফবাসীদের পরিচয় ও তাদের আকাক্সক্ষার কথা জানতে পারলাম।
৪. দুনিয়ার ধন-সম্পদ, প্রভাব-প্রতিপত্তি সৎ পথে ব্যয়িত না হলে তা কোন উপকারে আসবে না।
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Are You Sure you want to Delete Pin
“” ?
Add to Collection
Bookmark
Pins
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Audio Settings