Surah Al Munafiqun Tafseer
Tafseer of Al-Munafiqun : 6
Saheeh International
It is all the same for them whether you ask forgiveness for them or do not ask forgiveness for them; never will Allah forgive them. Indeed, Allah does not guide the defiantly disobedient people.
Tafsir Fathul Mazid
Tafseer 'Tafsir Fathul Mazid' (BN)
৫-৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
আল্লাহ তা‘আলা মুনাফিকদের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্যের কথা এখানে তুলে ধরে বলছেন। এদেরকে যদি বলা হয়, তোমরা তোমাদের কৃত অপরাধ ও কুফরীর জন্য আল্লাহ তা‘আলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যাও, তিনি তোমাদের জন্য ক্ষমা চাইবেন। অথচ তারা ক্ষমা না চেয়ে উদ্ধত্য ও বড়ত্ব প্রকাশ করে মাথা ফিরিয়ে নিবে। তারা কখনো ক্ষমা চাইবে না। কারণ তারা ক্ষমা চাইলেই নিজেদেরকে অপমানিত মনে করবে। আল্লাহ তা‘আলা বলছেন তাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্ষমা চান আর না চান তিনি ক্ষমা করবে না।
(هُمُ الَّذِيْنَ يَقُوْلُوْنَ لَا تُنْفِقُوْا عَلٰي مَنْ عِنْدَ رَسُوْلِ اللّٰهِ) শানে নুযূল :
জায়েদ বিন আরকাম (রাঃ) বলছেন : যখন আব্দুল্লাহ বিন উবাই বলল : আল্লাহ তা‘আলার রাসূলের নিকট যারা আছে (অর্থাৎ সাহাবীরা) তাদের জন্য কিছুই ব্যয় করো না। এবং আরো বলল : যদি আমরা মদীনায় ফিরে যাই তাহলে সম্মানিত ব্যক্তিরা অসম্মানিতদেরকে বের করে দেব। আমি এ কথা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জানালাম (এ কথা শুনে) আনসারীরা আমাকে তিরস্কার করতে লাগলে। আব্দুল্লাহ বিন উবাই শপথ করে বলল : সে এসব কথা বলেনি। আমি বাড়িতে ফিরে আসলাম এবং ঘুমিয়ে গেলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে ডাকলেন আমি তাঁর কাছে আসলাম। তিনি বললেন : নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে সত্য বলে উল্লেখ করেছেন এবং
(هُمُ الَّذِيْنَ يَقُوْلُوْنَ لَا تُنْفِقُوْا)
আয়াত অবতীর্ণ হয়। (সহীহ বুখারী হা. ৪৯০২, সহীহ মুসলিম হা. ২৭৭২)
জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন : একদা আমরা কোন এক যুদ্ধে ছিলাম। (যাকে ঐতিহাসিকগণ মুরাইসী অথবা বানী মুসতালিক বলেছেন)। জনৈক মুহাজির আনসারীদের এক ব্যক্তিকে নিতম্বে আঘাত করলেন। তখন আনসারী সাহাবী “মুহাজির ভাইগণ” বলে ডাক দিলেন। আল্লাহ তা‘আলা রাসূলের কানে এ কথা পৌঁছে দিলেন। তিনি বললেন : এটা কেমন ডাকাডাকি। অন্য বর্ণনায় রয়েছে : তোমাদের কী হল যে, জাহিলিয়া যুগের প্রথা ডেকে নিয়ে আসছো। (সহীহ বুখারী হা. ৪৯০৫) উপস্থিত লোকেরা বললেন : জনৈক মুহাজির ব্যক্তি এক আনসারী ব্যক্তির নিতম্বে আঘাত করেছে। আনসারী ব্যক্তি হে আনসারী ভাইগণ বলে আর মুহাজির ব্যক্তি হে মুহাজির ভাইগণ বলে নিজ নিজ গোত্রকে ডাক দিলেন। এ কথা শুনে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : এ রকম ডাকাডাকি ত্যাগ কর, এগুলো অত্যন্ত দুর্গন্ধযুক্ত কথা। জাবের (রাঃ) বলছেন : নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মদীনায় হিজরত করে আসেন তখন আনসারী সাহাবীদের সংখ্যা বেশি ছিল। পরে মুহাজিরদের সংখ্যা বেশি হয়ে যায়। এ কথা শুনে আব্দুল্লাহ বিন উবাই বলল : সত্যিই তারা কি এমন করেছে? আল্লাহ তা‘আলার শপথ আমরা মদীনায় ফিরে গেলে সম্মানিত ব্যক্তিরা অসম্মানিত ব্যক্তিদের বের করে দেব। উমার (রাঃ) বলছেন : হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমাকে ছেড়ে দিন, আমি এ মুনাফিকদের গর্দান উড়িয়ে দিই। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : উমার (রাঃ) তাকে ছেড়ে দাও যাতে লোকেরা এমন কথা বলতে না পারে মুহাম্মাদ তাঁর সাথীদের হত্যা করে। (সহীহ বুখারী হা. ৪৯০৭, সহীহ মুসলিম হা. ২৫৮৪)
আব্দুল্লাহ বিন উবাই সম্মানিত বলতে নিজের দলবলের লোকদের বুঝাতো আর অসম্মানিত বলতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও সাহাবীদেরকে বুুঝাতো। মূলত সম্মান তো কেবলমাত্র আল্লাহ তা‘আলা, রাসূল ও মু’মিনদের জন্য।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. মু’মিনদের সাথে মুনাফিকদের চরম শত্রুতার কথা জানতে পারলাম।
২. মুনাফিকদের জন্য দু‘আ প্রার্থনা উপকারে আসবে না।
৩. রিযিক ও মান সম্মানের মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা। তিনি যাকে ইচ্ছা সম্মান দান করেন আবার যাকে ইচ্ছা অপমানিত করেন।
৪. মুনাফিকরা মু’মিনদের বিপদ-আপদের সুযোগ খুঁজে।
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Are You Sure you want to Delete Pin
“” ?
Add to Collection
Bookmark
Pins
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Audio Settings