Surah Al Ma'idah Tafseer
Tafseer of Al-Ma'idah : 94
Saheeh International
O you who have believed, Allah will surely test you through something of the game that your hands and spears [can] reach, that Allah may make evident those who fear Him unseen. And whoever transgresses after that - for him is a painful punishment.
Tafsir Fathul Mazid
Tafseer 'Tafsir Fathul Mazid' (BN)
৯৪-৯৫ নং আয়াতের তাফসীর:
শিকার করা আরববাসীদের জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পন্থা ছিল এবং এটা তাদের মাঝে খুব প্রসিদ্ধ ছিল। এ জন্যই ইহরাম অবস্থায় ও হারামে তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে তাদের পরীক্ষা করার জন্য। যেমন বানী ইসরাঈলকে শনিবার মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা বিধান দ্বারা পরীক্ষা করা হয়েছে। বিশেষ করে হুদায়বিয়ায় অবস্থানকালে সাহাবাদের নিকট অধিক হারে শিকার আসতে থাকে, তখন তাদের অবস্থা ও দৃশ্যপট ভিন্ন হয়ে যায় এবং এ ব্যাপারে বিধান কী হবে সংশয়ে পড়ে যান। তাদের অবস্থা ও ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজের বিবরণ দিয়ে ৯৪-৯৭ নং আয়াত অবতীর্ণ হয়। (কুরতুবী ৫/২২৫)
(تَنَالُھ۫ٓ اَیْدِیْکُمْ....)
‘তোমাদের হাত ও বর্শা যা শিকার করে’ অর্থাৎ নিকটবর্তী শিকার অথবা ছোট জন্তু শিকার যা সাধারণত হাত দিয়েই ধরা হত এবং দূরবর্তী ও বড় জন্তুর জন্য তীর বল্লম ইত্যাদি ব্যবহার করা হত। সে জন্য উভয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু উদ্দেশ্য হচ্ছে, শিকার যেমনই হোক আর যেভাবেই করা হোক ইহরাম অবস্থায় শিকার করা যাবে না, সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
(لَا تَقْتُلُوا الصَّيْدَ وَأَنْتُمْ حُرُمٌ)
“ইহরামে থাকাকালে তোমরা শিকার-জন্তু হত্যা কর না” ইহরাম অবস্থায় শিকার করা অথবা শিকার করার জন্য ইশারা করা সবই হারাম। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন: যা খাওয়া বৈধ নয় তা ইহরাম অবস্থায় হত্যা করা হালাল।
অধিকাংশ আলেম বলেন: ইহরাম অবস্থায় সবকিছুই হত্যা করা হারাম। তবে শরীয়ত যেগুলো হত্যা করা বৈধ করে দিয়েছে সেগুলো ব্যতীত।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: পাঁচটি প্রাণী ইহরাম অবস্থায় হত্যা করলে কোন অপরাধ নেই। তা হল কাক, চিল, বিচ্ছু, ইঁদুর ও পাগলা কুকুর। (সহীহ বুখারী হা;১৭৩১)
(وَّمَنْ قَتَلَه مِنْكُمْ مُّتَعَمِّدًا)
“তোমাদের মধ্যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে তা হত্যা করলে” অধিকাংশ আলিমের মতে কাফফারা আদায় করার ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত ও ভুলবশত হত্যাকারী উভয়ই সমান। ইমাম জুহরী (রহঃ) বলেন: কুরআন দ্বারা শুধু ইচ্ছাকৃত ত্যাকারীর ওপর কাফফারা ওয়াজিব হওয়া প্রমাণিত হয় বটে কিন্তু হাদীস দ্বারা ভুলবশত হত্যাকারীর ওপরও কাফফারা ওয়াজিব হওয়া প্রমাণিত হয়। মূলতঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও সাহাবাদের থেকে ভুল করে হত্যাকারীর ওপরও কাফফারা ওয়াজিব বলে প্রমাণিত হয়। যেমন কুরআন দ্বারা ইচ্ছাকৃত হত্যাকারীর ওপর কাফফারা ওয়াজিব বলে প্রমাণিত হয়। কেননা উভয় অবস্থাতেই শিকার করলে নিহত প্রাণী নষ্টের অন্তর্ভুক্ত।
(فَجَزَا۬ءٌ مِّثْلُ مَا قَتَلَ مِنَ النَّعَمِ)
“তার বিনিময় হচ্ছে অনুরূপ গৃহপালিত জন্তু” এর অর্থ হল দৈহিক গঠনে ও আকার আকৃতিতে অনুরূপ কিন্তু মূল্যে অনুরূপ নয়। যেমন কেউ হরিণ শিকার করে ফেললে অনুরূপ গৃহপালিত জন্তু যেমন ছাগল বা নীল গাভী ইত্যাদি দেবে। যেসব প্রাণীর সদৃশ পাওয়া দুষ্কর সেগুলোর মূল্য নির্ধারণ করে ফিদ্ইয়াস্বরূপ মক্কায় পাঠিয়ে দেবে।
(هَدْيًام بٰلِغَ الْكَعْبَةِ)
‘‘কা‘বায় প্রেরিতব্য কুরবানীরূপে’পশু কা‘বায় পৌঁছতে হবে অর্থাৎ হারামের সীমানায় জবাই করা হবে।
(أَوْ كَفَّارَةٌ طَعَامُ مَسٰكِيْنَ)
‘‘অথবা তার কাফফারা হল দরিদ্রকে খাবার দান’অর্থাৎ এ অপরাধের কাফফারা মিসকিনকে খাওয়ানো। যদি শিকারী অনুরূপ প্রাণী হারামে জবেহ করতে না পারে, তার মূল্য দিয়ে মিসকিনকে খাদ্য খাওয়াতে হবে। (তাফসীর সা‘দী, পৃঃ ২৩৫)
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. আল্লাহ তা‘আলা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বস্তু দ্বারা বান্দাদের পরীক্ষা করেন।
২. ইহরাম অবস্থায় শিকার করা ও শিকারে সহযোগিতা করা হারাম।
৩. ইহরাম অবস্থায় ইচ্ছা করে বা ভুলবশত শিকার করলে এ জন্য কাফফারা দিতে হবে।
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Are You Sure you want to Delete Pin
“” ?
Add to Collection
Bookmark
Pins
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Audio Settings