Surah An Nisa Tafseer
Tafseer of An-Nisa : 126
Saheeh International
And to Allah belongs whatever is in the heavens and whatever is on the earth. And ever is Allah, of all things, encompassing.
Tafsir Fathul Mazid
Tafseer 'Tafsir Fathul Mazid' (BN)
১২৩-১২৬ নং আয়াতের তাফসীর:
অত্র আয়াত গুলোতে আল্লাহ তা’আলা সুন্দর একটি নিয়মের কথা বলেছেন, তা হল জাতি, বর্ণ, বংশ উঁচু-নীচু নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষ আল্লাহ তা’আলার নিকট প্রিয়পাত্র হবার একমাত্র মাধ্যম সৎ আমল করা। সৎ আমল ছাড়া সে যত কিছুই দাবী করুক না কেন তা প্রত্যাখ্যাত। তাই আহলে কিতাবগণ যতই দাবী করুক- ‘আমরাই ভাল মানুষ, আমরাই আল্লাহ তা’আলার প্রিয়পাত্র’ যেহেতু সৎ আমল নেই তাই তাদের দাবী যেমন কাজে আসবে না, তেমনি মুসলিমদের যে কেউ সৎ আমল ছাড়া নিজেকে ভাল দাবী করুক তা ফলপ্রসূ হবে না।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তির আমল তাকে পিছনে ফেলে দেবে বংশনামা তাকে সামনে এগিয়ে নিতে পারবে না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
إِنَّ اللّٰهُ لَا يَنْظُرُ إِلٰي صُوَرِكُمْ وَأَمْوَالِكُمْ وَلَكِنْ يَنْظُرُ إِلٰي قُلُوبِكُمْ وَأَعْمَالِكُمْ
নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সৌন্দর্য ও ধন-সম্পদের দিকে তাকাবেন না। বরং তাকাবেন তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে। (সহীহ মুসলিম হা: ২৫৬৪)
তাই যেকোন শ্রেণির লোক ঈমানের সাথে সৎ আমল করলে ভাল প্রতিদান পাবে আর খারাপ আমল করলে তদ্রুপ প্রতিদান পাবে।
(وَمَنْ اَحْسَنُ دِیْنًا)
‘তার অপেক্ষা দীনে কে অধিক উত্তম’ এখানে আল্লাহ তা‘আলা বিস্ময়সূচকভাবে বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার কাছে আত্মসমর্পণ করল ও ইবরাহীম (আঃ)-এর ধর্মের অনুসরণ করল তার চেয়ে কে ধর্মের দিক দিয়ে উত্তম! অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন, সে ব্যক্তিই মূলত ধর্মের দিক দিয়ে উত্তম।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَمَنْ يُّسْلِمْ وَجْهَه۫ٓ إِلَي اللّٰهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقٰي ط وَإِلَي اللّٰهِ عَاقِبَةُ الْأُمُوْرِ)
“যে ব্যক্তি সৎকর্মপরায়ণ হয়ে নিজেকে নিষ্ঠার সাথে আল্লাহ অভিমুখী করে, সে দৃঢ়ভাবে এক মজবুত হাতল ধারণ করল। সকল কাজের পরিণাম আল্লাহরই নিকট পৌঁছবে।”(সূরা লুকমান ৩১:২)
আল্লাহ তা’আলা স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ইবরাহীমের ধর্মের অনুসারী হতে বলেছেন। কেননা ইবরাহীম (আঃ) মুশরিক, ইয়াহূদী বা খ্রিস্টান ছিলেন না। বরং একনিষ্ঠ মুসলিম ছিলেন।
(وَاتَّخَذَ اللّٰهُ إِبْرٰهِيْمَ خَلِيْلًا)
‘আর আল্লাহ ইবরাহীমকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন।’ এ আয়াত প্রমাণ করে আল্লাহ তা‘আলা ইবরাহীম (আঃ)-কে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছেন। আর এ আয়াত তাদের দাবীকে নাকচ করছে যারা বলে আল্লাহ তা‘আলা ইবরাহীম (আঃ)-কে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেননি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
إِنَّ اللّٰهَ تَعَالَي قَدِ اتَّخَذَنِيْ خَلِيلاً كَمَا اتَّخَذَ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلاً
আল্লাহ তা‘আলা আমাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন যেমন বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন ইবরাহীম (আঃ)-কে। (সহীহ বুখারী হা: ৪৪৬, সহীহ মুসলিম হা: ৫৩২)
অতএব দাবীর সাথে যদি বাস্তবতার কোন সাদৃশ্য না থাকে তাহলে সে দাবী অবশ্যই প্রত্যাখ্যাত। তাই আমাদের দাবীর সাথে কর্মের সাদৃশ্য থাকা একান্ত আবশ্যক।
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. দাবী করে না বরং সৎ আমলের মাধ্যমেই আল্লাহ তা‘আলার প্রিয়পাত্র হওয়া যায়।
৩. অন্যান্য সকল দীনের ওপর ইসলামের ফযীলত জানলাম।
৪. ইবরাহীম (আঃ)-এর ফযীলত জানলাম যে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছেন।
৫. সকল কিছু থেকে আল্লাহ তা’আলা অমুখাপেক্ষী।
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Are You Sure you want to Delete Pin
“” ?
Add to Collection
Bookmark
Pins
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Audio Settings