Surah An Nisa Tafseer
Tafseer of An-Nisa : 112
Saheeh International
But whoever earns an offense or a sin and then blames it on an innocent [person] has taken upon himself a slander and manifest sin.
Tafsir Fathul Mazid
Tafseer 'Tafsir Fathul Mazid' (BN)
১১০-১১৩ নং আয়াতের তাফসীর:
অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ক্ষমার সাগরের কথা বলেছেন।
যে ব্যক্তি কোন খারাপ কাজ করল বা নিজের প্রতি জুলুম করল অতঃপর আল্লাহ তা‘আলার কাছে নিজের গুনাহ স্বীকার করতঃ তাওবাহ করল আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:
(وَالَّذِيْنَ إِذَا فَعَلُوْا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوْآ أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللّٰهَ فَاسْتَغْفَرُوْا لِذُنُوْبِهِمْ)
“এবং যখন কেউ অশ্লীল কার্য করে কিংবা স্বীয় জীবনের প্রতি অত্যাচার করে, তৎপর আল্লাহকে স্মরণ করে অপরাধসমূহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।”(সূরা আলি-ইমরান ৩:১৩৫) আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:
(وَمَنْ يَّعْمَلْ سُوْ۬ءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَه۫ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللّٰهَ يَجِدِ اللّٰهَ غَفُوْرًا رَّحِيْمًا)
“যে ব্যক্তি কোন মন্দ কাজ করে অথবা নিজের প্রতি জুলুম করতঃ পরে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহকে সে ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু পাবে।”(সূরা নিসা ৪:১১০)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: কোন মুসলিম ব্যক্তি অপরাধ করল অতঃপর ওযূ করে দু’রাকআত সালাত আদায় করল। তারপর আল্লাহ তা‘আলার কাছে কৃত গুনাহর ক্ষমা চাইল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ আয়াতদ্বয় তেলাওয়াত করলেন। (আহমাদ হা: ৪৮, সহীহ)
পক্ষান্তরে যদি কেউ অপরাধ করার পরেও নিজেকে অপরাধ থেকে মুক্ত মনে করে, সে মূলত মিথ্যা অপবাদ ও পাপের বোঝা বহন করল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَلَا تَكْسِبُ كُلُّ نَفْسٍ إِلَّا عَلَيْهَا ج وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِّزْرَ أُخْرٰ)
“প্রত্যেকে স্বীয় কৃতকর্মের জন্য দায়ী এবং কেউ অন্য কারো (পাপের) ভার গ্রহণ করবে না।”(সূরা আন‘আম ৬:১৬৪)
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলেন, হে রাসূল! যদি তোমার প্রতি আমার রহমত না থাকত তাহলে বানী উবাইরিকের একদল (যাদের কথা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি) তোমাকে পথভ্রষ্ট করে ফেলত। আল্লাহ তা‘আলার অশেষ রহমত যে, তিনি তোমাকে তাদের প্রকৃত ঘটনা জানিয়ে দিয়ে সঠিক ফায়সালায় উপনীত হবার তাওফীক দান করেছেন।
আবার দ্বিতীয় আরেকটি অনুগ্রহ হল:
আল্লাহ তা‘আলা কিতাব ও হিকমত (সুন্নাহ) অবতীর্ণ করেছেন। বুঝা গেল সুন্নাহ বা সহীহ হাদীস আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মনগড়া কথা নয় (তাফসীর মুয়াসসার, অত্র আয়াতের তাফসীর)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوٰي ط إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُّوْحٰي)
“এবং সে প্রবৃত্তি হতেও কোন কথা বলে না। এটা তো এক ওয়াহী, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়।” (সূরা নাজম ৫৩:৩-৪)
(وَعَلَّمَکَ مَا لَمْ تَکُنْ تَعْلَمُ)
‘তুমি যা জানতে না তা তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন’এখানে আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এমন কিছু শিক্ষা দিয়েছেন যা তিনি জানতেন না। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা এ সম্পর্কে বলেন:
(وَكَذٰلِكَ أَوْحَيْنَآ إِلَيْكَ رُوْحًا مِّنْ أَمْرِنَا ط مَا كُنْتَ تَدْرِيْ مَا الْكِتٰبُ وَلَا الْإِيْمَانُ وَلٰكِنْ جَعَلْنٰهُ نُوْرًا نَّهْدِيْ بِه۪ مَنْ نَّشَا۬ءُ مِنْ عِبَادِنَا ط وَإِنَّكَ لَتَهْدِيْٓ إِلٰي صِرَاطٍ مُّسْتَقِيْمٍ)
“আর এভাবেই আমি তোমার প্রতি ওয়াহী করেছি রূহ (কুরআন) আমার নির্দেশে; তুমি তো জানতে না কিতাব কী ও ঈমান কী পক্ষান্তরে আমি একে করেছি আলো যা দ্বারা আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা সঠিক পথনির্দেশ করি; তুমি অবশ্যই প্রদর্শন কর সরল পথ।” (সূরা শুরা ৪২:৫২)
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. তাওবাহ করলে আল্লাহ তা‘আলা অতীতের গুনাহ ক্ষমা করে দেন।
২. অপরাধ করেও নিজেকে পবিত্র মনে করা কাবীরা গুনাহ।
৩. বাহ্যিক কথা অন্তরে প্রভাব ফেলে।
৪. জুলুমের পরিণতি জালেমের উপরেই বর্তায়।
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Are You Sure you want to Delete Pin
“” ?
Add to Collection
Bookmark
Pins
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Audio Settings