Surah Az Zukhruf Tafseer
Tafseer of Az-Zukhruf : 61
Saheeh International
And indeed, Jesus will be [a sign for] knowledge of the Hour, so be not in doubt of it, and follow Me. This is a straight path.
Tafsir Fathul Mazid
Tafseer 'Tafsir Fathul Mazid' (BN)
৫৭-৬৫ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
‘ঈসা (আঃ) সম্পর্কে মক্কার কুরাইশদের যেমন ধ্যান-ধারণা ছিল সে সম্পর্কে এখানে আলোচনা করা হয়েছে। তারা ‘ঈসা (আঃ) সম্পর্কে কোন উপমা শুনলে হট্টগোল করত এবং বলত : আমাদের দেবতাগুলো শ্রেষ্ঠ, না ঈসা? তারা তর্ক-বিতর্ক, বাক-বিতণ্ডা করার জন্যই এরূপ কথা-বার্তা বলত। তাদের এ কথার উত্তরে আল্লাহ তা‘আলা বলেন : সে কোন প্রভু বা উপাস্য নয় যে, তোমরা তাকে দেবতার সাথে তুলনা করছ, সে শুধুমাত্র আমার একজন বান্দা যার প্রতি আমি নবুওয়াত দান করার মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছি মাত্র। সে আমার একজন বান্দা ব্যতীত আর কিছুই নয়। ঈসা (আঃ)-এর প্রতি আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহের বর্ণনা সূরা মায়িদার ১১০ নম্বর আয়াতেও বর্ণিত হয়েছে। ধর্মীয় ব্যাপারে এরূপ বাক-বিতন্ডা করতে হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে।
আবূ উসামা (রাঃ) বলেন : একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানুষের কাছে বের হলেন, এমন সময় তারা কুরআন নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুব রাগ করলেন এমনকি মনে হল যেন তাঁর চেহারায় সিরকা ঢেলে দেয়া হয়েছে। তিনি বললেন : তোমরা কুরআনের এক অংশ দ্বারা অন্য অংশের সাথে সংঘর্ষ সৃষ্টি করো না। কারণ যারা এরূপ বাগ-বিতন্ডা করেছে তারাই পথভ্রষ্ট হয়েছে। (তিরমিযী হা. ৩২৫৩, সহীহ)
এসব আয়াতের শানে নুযুল সম্পর্কে তিন ধরণের বর্ণনা পাওয়া যায়। প্রথম বর্ণনা হল- ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরাইশদেরকে বললেন : হে কুরাইশগণ! আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত যারই ইবাদত করা হয় তার মধ্যে কোন কল্যাণ নেই। কুরাইশরা বলল : আপনি কি মনে করেন না ঈসা (আঃ) একজন নাবী ও সৎ বান্দা ছিলেন। আপনার যদি এ বিশ্বাস থাকে তাহলে জেনে নিন তিনি তো আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্যের ইবাদত করতেন। (সিলসিলা সহীহাহ হা. ৩২০৮)
দ্বিতীয় বর্ণনা হল- আব্দুল্লাহ বিন যিবা’রা নামক এক ব্যক্তিকে কুরাইশরা বলল : তুমি কি শুনছ মুহাম্মাদ বলেন :
(إِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ حَصَبُ جَهَنَّمَ ط أَنْتُمْ لَهَا وَارِدُوْنَ)
তোমরা এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ‘ইবাদত কর সেগুলো তো জাহান্নামের ইন্ধন; তোমরা সকলে তাতে প্রবেশ করবে। (সূরা আম্বিয়া ২১ : ৯৮) তখন সে ব্যক্তি বলল, আমি যদি উপস্থিত থাকতাম তাহলে তার জবাব দিতাম। তারা বলল কী জবাব দিতে? সে ব্যক্তি বলল, আমি বলতাম- খ্রিস্টানরা ঈসা (আঃ)-এর ইবাদত করে আর ইয়াহূদীরা উজাইর এর ইবাদত করে। তাহলে তারা দুজন কি জাহান্নামের ইন্ধন? তার কথা শুনে কুরাইশরা খুবই আনন্দিত হল। এর জবাবে আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেন :
(إِنَّ الَّذِيْنَ سَبَقَتْ لَهُمْ مِّنَّا الْحُسْنٰٓي لا أُولٰ۬ئِكَ عَنْهَا مُبْعَدُوْنَ)
“যাদের জন্য আমার নিকট হতে পূর্ব হতে কল্যাণ নির্ধারিত রয়েছে তাদেরকে তা হতে দূরে রাখা হবে।” (সূরা আম্বিয়া ২১ : ১০১)
তৃতীয় বর্ণনা হল- কাতাদাহ বলেন : একদা মক্কার মুশরিকরা প্রচার করতে লাগল, মুহাম্মাদ চায় তার ইবাদত করা হোক যেমন ঈসা (আঃ)-এর জাতি ঈসা (আঃ)-এর ইবাদত করে। তখন এ আয়াত নাযিল হয়। (কুরতুবী)
(وَلَوْ نَشَا۬ئُ لَجَعَلْنَا مِنْکُمْ مَّلٰ۬ئِکَةً فِی الْاَرْضِ یَخْلُفُوْنَﮋ)
“আমি ইচ্ছা করলে তোমাদের পরিবর্তে ফেরেশতাদেরকে জমিনে প্রতিনিধি হিসেবে সৃষ্টি করতাম, তারা জমিনে বসবাস করত” এবং তাদের কাছে ফেরেশতা রাসূল প্রেরণ করতাম। কিন্তু তোমারা তো মানুষ, তোমাদের কাছে ফেরেশতা রাসূল হিসেবে প্রেরণ করলে তা সঙ্গতিপূর্ণ হবে না। সুতরাং তোমাদের প্রতি আল্লাহ তা‘আলার রহমত যে, তিনি তোমাদের মতই মানুষকে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি তোমাদের সকল সমস্যা ও দুঃখ-কষ্ট বুঝতে পারেন।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন : ‘ঈসা সে তো হলো কিয়ামতের একটি নিদর্শন। অর্থাৎ- কিয়ামত পূর্ব মুহূর্তে ‘ঈসা (আঃ)-কে পৃথিবীতে পুনরায় প্রেরণ করা হবে আর তার পরপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে। এতে কোন প্রকার সন্দেহ সংশয় নেই।
এ আয়াতের অন্য একটি কিরাত (তেলাওয়াত পদ্ধতি) ব্যাপারটিকে শক্তিশালী করে, যেমন :
وَإِنَّهُ لَعَلَمٌ لِّلسَّاعَةِ
আইন অক্ষরে ও লাম অক্ষরে যবর দিয়ে। অর্থাৎ ঈসা (আঃ)-এর অবতরণ কিয়ামতের একটি বিশেষ আলামত। এ কিরাত ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ ও অন্যান্য মুফাসসিরদের থেকে বর্ণিত।
ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত এ আয়াতের তাফসীরে বলেন : এটা কিয়ামত দিবসের পূর্বে ঈসা (আঃ)-এর অবতরণ। (মুসনাদে আহমাদ হা. ২৯২১,সহীহ)
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহঃ) কে ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যু সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন : আল হামদুল্লিাহ, ঈসা (আঃ) জীবিত। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহীহ হাদীসে প্রমাণিত- তোমাদের মাঝে ঈসা (আঃ) অবতরণ করবেন একজন ন্যায়পরায়ণ বিচারক ও ইমাম হিসেবে। তিনি শূলী ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন এবং জিযিয়া তুলে ফেলবেন (তাফসীরে মানার ৩/৩১৭.) ঈসা (আঃ) কর্তৃক স্বজাতির কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আসা ও এক আল্লাহ তা‘আলার দিকে আহ্বান করার পরেও জাতির লোকেরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে গেল এবং মতানৈক্য করল।
(فَاخْتَلَفَ الْأَحْزَابُ)
এখানে খ্রিস্টানদেরই বিভিন্ন দলকে বুঝানো হয়েছে। এরা আপোষে ‘ঈসা (আঃ)-এর ব্যাপারে পরস্পরবিরোধী মত পোষণ করে। একদল তাঁকে আল্লাহর পুত্র, অন্যদল তাঁকে আল্লাহ ও তিনের মধ্যে একজন মনে করল আর একদল তাঁকে মুসলিমদের মতো আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল হিসেবে গ্রহণ করল। যারা রাসূল হিসেবে গ্রহণ না করে অন্য মত অবলম্বন করেছে তারাই জালিম। তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। (তাফসীরে মুয়াসসার, তাফসীর অত্র আয়াত)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. ‘ঈসা (আঃ)-এর পুনঃআগমন কিয়ামতের একটি নিদর্শন।
২. ‘ঈসা (আঃ) হলেন শুধুমাত্র আল্লাহর একজন বান্দা ও রাসূল মাত্র, এর বেশি কিছু নন।
৩. আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত আর কারো ‘ইবাদত করা যাবে না। একমাত্র তাঁরই ‘ইবাদত করতে হবে। কেননা তিনি ব্যতীত সঠিক কোন মা‘বূদ নেই।
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Are You Sure you want to Delete Pin
“” ?
Add to Collection
Bookmark
Pins
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Audio Settings