Surah Ash Shura Tafseer
Tafseer of Ash-Shuraa : 43
Saheeh International
And whoever is patient and forgives - indeed, that is of the matters [requiring] determination.
Tafsir Fathul Mazid
Tafseer 'Tafsir Fathul Mazid' (BN)
৪০-৪৩ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
এখানে আল্লাহ তা‘আলা দন্ডের বা শাস্তির তিনটি স্তর বর্ণনা করেছেন- ১. ন্যায় বিচার করা, ২. অনুগ্রহ করে দেয়া, ৩. জুলুম করা। ন্যায় বিচার হল “মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ” অর্থাৎ কেউ যদি কাউকে হত্যা করে তাহলে তাকেও হত্যা করতে পারবে, কেউ কারো ওপর জুলুম করলে তার ওপরও অনুরূপ জুলুম করতে পারবে। মোট কথা কেউ অপরাধ করলে প্রতিশোধমূলক তাকেও অনুরূপ শাস্তি প্রদানের অধিকার রাখে। কারণ মন্দ কর্মের প্রতিদান কখনো ভাল হতে পারে না।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(فَمَنِ اعْتَدٰي عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوْا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدٰي عَلَيْكُمْ ص وَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاعْلَمُوْآ أَنَّ اللّٰهَ مَعَ الْمُتَّقِيْنَ)
“যদি কেউ তোমাদের প্রতি অত্যাচার করে, তবে তোমরাও তার প্রতি সে পরিমাণ অত্যাচার কর যতটুকু সে করেছে। আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রেখ যে, আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন।” (সূরা বাকারাহ ২ : ১৯৪)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন :
(وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوْا بِمِثْلِ مَا عُوْقِبْتُمْ بِه۪ ط وَلَئِنْ صَبَرْتُمْ لَهُوَ خَيْرٌ لِّلصّٰبِرِيْنَ)
“যদি তোমরা শাস্তি দাও, তবে ঠিক ততখানি শাস্তিই দেবে যতখানি অন্যায় তোমাদের প্রতি করা হয়েছে। আর যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর তবে ধৈর্যশীলদের জন্য তাই তো উত্তম।” (সূরা নাহ্ল ১৬ : ১২৬) এর দ্বারা মূলত ক্বিসাস নেয়া বৈধ হওয়ারই ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে।
তবে কেউ যদি আঘাত প্রাপ্ত হয়েও ক্ষমা করে দেয় তাহলে সে এর জন্য আল্লাহ তা‘আলার নিকট পুরষ্কার প্রাপ্ত হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(فَمَنْ تَصَدَّقَ بِه۪ فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَّه۫)
“তবে কেউ তা ক্ষমা করে দিলে তা তার (ক্ষমাকারীর) জন্য পাপের কাফফারা হবে। ” (সূরা মায়িদাহ্ ৫ : ৪৫)
হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : ক্ষমা করে দেয়ার কারণে আল্লাহ তা‘আলা বান্দার মর্যাদাকে বৃদ্ধি করে দেন। (সহীহ মুসলিম ৪ : ২০০১)
অতএব, অত্যাচারিত হবার পর সে অনুপাতে যদি কেউ বদলা নিতে চায় তাহলে তার জন্য এটা বৈধ এবং এ কারণে সে গুনাহগারও হবে না। তবে যদি কেউ বদলা গ্রহণ না করে বরং অত্যাচারীকে ক্ষমা করে দেয় তাহলে এটাই উত্তম এবং অত্যাচারিত ব্যক্তির জন্য এটা একটি দৃঢ়-সংকল্পের কাজ।
তবে যদি বদলা নিতে চায় তাহলে সে অনুপাতেই নিতে হবে এর চেয়ে বেশি নেয়া যাবে না। বেশি নিলে সীমালঙ্ঘন বলে গণ্য হবে এবং সে অপরাধী হবে। যেমন একটি জুলুম হল কিসাস আদায় করার পর দিয়াত দেয়া।
(إِنَّمَا السَّبِيْلُ عَلَي الَّذِيْنَ يَظْلِمُوْنَ)
‘শুধু তাদের বিরুদ্ধে দোষারোপ করা হবে যারা মানুষের ওপর অত্যাচার করে’ এখানে সকল প্রকার অত্যাচার শামিল। তা সম্পদে হতে পারে, রক্তে হতে পারে বা সম্মানে হতে পারে।
সুতরাং মানুষ মানুষের প্রতি অন্যায় করতে পারে, তাই বলে সে অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে গিয়ে বেশি অত্যাচার করা নেহায়েত অপরাধ। বরং ক্ষমার ঊর্ধ্বে কিছ্ইু নেই। ক্ষমা করে দিলে অন্যায়কারী নিজে নিজেই লজ্জিত হবে, তাছাড়া অত্যাচারিত ব্যক্তির সম্মান তো আল্লাহ তা‘আলার কাছে আছেই।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. মন্দের প্রতিদান মন্দই হয়ে থাকে।
২. প্রতিশোধ গ্রহণ করা অপেক্ষা ক্ষমা করে দেয়াই উত্তম।
৩. ক্ষমা করে দেয়ার মাধ্যমে বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Are You Sure you want to Delete Pin
“” ?
Add to Collection
Bookmark
Pins
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Audio Settings