Surah Ash Shura Tafseer
Tafseer of Ash-Shuraa : 29
Saheeh International
And of his signs is the creation of the heavens and earth and what He has dispersed throughout them of creatures. And He, for gathering them when He wills, is competent.
Tafsir Fathul Mazid
Tafseer 'Tafsir Fathul Mazid' (BN)
২৯-৩১ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
যে-সকল নিদর্শন আল্লাহ তা‘আলার মহত্ত্ব ও বড়ত্ত্বের প্রমাণ বহণ করে তার মধ্যে অন্যতম হলো আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি। তিনি আকাশ ও জমিনের সৃষ্টিকর্তা এবং তিনিই এতে পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, খাল-বিল, ঝর্ণা, পশু-পাখিসহ সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং যিনি এসব কিছুর সৃষ্টিকর্তা তিনিই সকল ইবাদত পাওয়ার যোগ্য, হাতে তৈরী কোন প্রতিমা, মূর্তি ও কোন নিদর্শন ইবাদত পাওয়ার যোগ্য হতে পারে না।
(وَهُوَ عَلٰي جَمْعِهِمْ إِذَا يَشَا۬ءُ قَدِيْرٌ)
‘তিনি যখন ইচ্ছা তখনই তাদেরকে সমবেত করতে সক্ষম’ অর্থাৎ এসব সৃষ্টির মৃত্যুর পর আল্লাহ তা‘আলা যখন ইচ্ছা সবাইকে একত্রিত করতে পারবেন। এমন নয় যে, তারা মারা যাবে, আর তাদের কোন হিসাব নিকাশ হবে না এবং তাদেরকে পাকড়াও করা হবে না। বরং আকাশ-জমিনে যা আছে সব কিছুকে তিনি যখন ইচ্ছা একত্রিত করতে পারবেন।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা করেন যে, পৃথিবীতে যত বালা-মসিবত ও আপদ-বিপদ আসে তার সকল কিছুই হয় মানুষের নিজ কৃতকর্মের জন্য, আর অধিকাংশ অপরাধ তিনি ক্ষমা করে দেন, সেগুলোর জন্য বিপদ-আপদ দেন না।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَلَوْ يُؤَاخِذُ اللّٰهُ النَّاسَ بِمَا كَسَبُوْا مَا تَرَكَ عَلٰي ظَهْرِهَا مِنْ دَا۬بَّةٍ وَّلٰكِنْ يُّؤَخِّرُهُمْ إِلٰٓي أَجَلٍ مُّسَمًّي ج فَإِذَا جَا۬ءَ أَجَلُهُمْ فَإِنَّ اللّٰهَ كَانَ بِعِبَادِه۪ بَصِيْرًا )
“আর যদি আল্লাহ মানুষকে তাদের কাজ-কর্মের দরুণ পাকড়াও করতেন তবে দুনিয়ার বুকে একটি প্রাণীকেও রেহাই দিতেন না। কিন্তু তিনি তাদেরকে এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দেন। অতঃপর যখন এসে পড়বে তাদের সেই নির্র্দিষ্ট সময়, (তখন তিনি তাদের কর্মের প্রতিফল দেবেন) আল্লাহ তো তাঁর বান্দাদের (বিষয়ে) সর্বদ্রষ্টা।” (সূরা ফা-ত্বির ৩৫ : ৪৫)
হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : ঐ সত্ত্বার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, মু’মিনের ওপর যে কষ্ট, বিপদ-আপদ, দুশ্চিন্তা আপতিত হয় সে কারণে তার অপরাধ ক্ষমা করে দেয়া হয় এমনকি একটি কাঁটা ফুটলেও। (সহীহ বুখারী হা. ৫৬৪১, সহীহ মুসলিম হা. ২৫৭৩)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : দুনিয়াতে তোমাদের ওপর যত অসুস্থতা, শাস্তি ও আপদ-বিপদ এসে থাকে তা তোমাদের হাতের অর্জন। আখিরাতে দ্বিতীয়বার সে অপরাধের শাস্তি দিতে আল্লাহ তা‘আলা লজ্জাবোধ করেন। দুনিয়াতে যা ক্ষমা করে দেন তাতে পুনরায় ফিরে আসা থেকে আল্লাহ তা‘আলা অধিক সম্মানিত। (মুসনাদ আহমাদ হা. ৬৪৯, সহীহ)
সুতরাং মানব জাতির পাপ কার্যের কারণেই জমিনে ভূমিকম্প, ভূমিধস ইত্যাদি বিপদ-আপদ ঘটে থাকে। অতএব আমাদের সকল পাপকাজ বর্জন করে আল্লাহ তা‘আলামুখী হওয়া উচিত।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. সকল কিছুর স্রষ্টা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা আর ‘ইবাদত পাবারও যোগ্য একমাত্র তিনিই।
২. মানুষের বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট, অসুস্থতা ইত্যাদির কারণে তার গুনাহ মোচন করে দেয়া হয়। তবে শর্ত হলো তাকে মু’মিন হতে হবে।
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Are You Sure you want to Delete Pin
“” ?
Add to Collection
Bookmark
Pins
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Audio Settings