Surah Fussilat Tafseer
Tafseer of Fussilat : 10
Saheeh International
And He placed on the earth firmly set mountains over its surface, and He blessed it and determined therein its [creatures'] sustenance in four days without distinction - for [the information] of those who ask.
Tafsir Fathul Mazid
Tafseer 'Tafsir Fathul Mazid' (BN)
৯-১২ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
আলোচ্য আয়াতগুলোতে মুশরিকদেরকে তাদের শির্ক ও কুফরের কারণে এক সাবলীল ভঙ্গিতে হুশিয়ার করা হয়েছে। এতে আল্লাহ তা‘আলার সৃষ্টিগুণ তথা বিশাল আকাশ ও পৃথিবীকে সৃষ্টি করার বিশদ বিবরণ দিয়ে তাদেরকে এ বলে শাসানো হয়েছে যে, তোমরা এমন নির্বোধ যে, মহান স্রষ্টা ও সর্বশক্তিমানের সাথে অপরকে শরীক সাব্যস্ত কর? সবারই সৃষ্টিকর্তা, অধিকর্তা, শাসনকর্তা ও পালনকর্তা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা। সবারই ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান একমাত্র তিনিই। জমিনের ন্যায় প্রশস্ত বস্তুকে তিনি স্বীয় ক্ষমতার বলে মাত্র দুদিনে সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং যিনি এত ক্ষমতাবান তাঁর সঙ্গে মানুষের কুফরী করা উচিৎ নয় এবং র্শিক করাও উচিৎ নয়।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(كَيْفَ تَكْفُرُوْنَ بِاللهِ وَكُنْتُمْ أَمْوَاتًا فَأَحْيَاكُمْ ج ثُمَّ يُمِيْتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيْكُمْ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُوْنَ )
“কিভাবে তোমরা আল্লাহকে অস্বীকার করছ? অথচ তোমরা নির্জীব ছিলে, পরে তিনিই তোমাদেরকে জীবনদান করেছেন, এরপর তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন, পরে আবার জীবিত করবেন, অবশেষে তোমাদেরকে তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে।” (সূরা বাকারাহ ২ : ৮)
এখানে আল্লাহ তা‘আলা জমিনকে দুদিনে সৃষ্টি করার কথা উল্লেখ করেছেন অথচ অন্যান্য জায়গায় বলা হয়েছে আকাশ-জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করা হয়েছে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
(إِنَّ رَبَّكُمُ اللّٰهُ الَّذِيْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضَ فِيْ سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوٰي عَلَي الْعَرْشِ)
“নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক ‘আল্লাহ যিনি আকাশসমূহ ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি ‘আরশে সমুন্নত হয়েছেন।” (সূরা আ‘রাফ ৭ : ৫৪)
অন্যান্য আয়াতগুলোতে আকাশ-জমিন সৃষ্টি করার কথা একত্রে ছয় দিনে বলা হয়েছে আর এখানে এগুলোর পৃথক পৃথক বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এখান থেকে জানা গেল যে, প্রথমে জমিনকে সৃষ্টি করা হয়েছে। ইমারত নির্মাণ করারও পদ্ধতি এটাই যে, প্রথমে ভিত্তি ও নীচের অংশ নির্মাণ করা হয়। তারপর উপরের অংশ ও ছাদ নির্মাণ করা হয়। আল্লাহ তা‘আলার বাণী :
(هُوَ الَّذِيْ خَلَقَ لَكُمْ مَّا فِي الْأَرْضِ جَمِيْعًا ق ثُمَّ اسْتَوٰٓي إِلَي السَّمَآءِ فَسَوّٰهُنَّ سَبْعَ سَمٰوٰتٍ ط وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ)
“তিনি সেই স্বত্ত্বা যিনি পৃথিবীতে যা কিছূ আছে সব তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন; অতঃপর তিনি আকাশের প্রতি মনোনিবেশ করেন, এবং সেগুলোকে সপ্ত আকাশে সুবিন্যস্ত করেন। আর তিনি সর্ব বিষয়ে মহাজ্ঞানী।” (সূরা বাকারাহ্ ২ : ২৯)
আর আকাশ ও জমিন সৃষ্টির বিষয়ে, আল্লাহ তা‘আলা বললেন, তিনি দু’ দিনে পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আকাশসমূহ সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর সেটার ছাদকে উচ্চ ও সুবিন্যস্ত করেছেন দু’ দিনে। এরপর তিনি এতে পানি এবং তৃণভূমি ছড়িয়ে দিয়েছেন। এতে তিনি সৃষ্টি করেছেন পাহাড়-পর্বতসহ বিভিন্ন প্রাণহীন পদার্থ। এগুলো তিনি দু’ দিনে সৃষ্টি করেছেন যা সূরা না-যি‘আ-ত-এর আয়াত এর সঠিক অর্থ। আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবী এবং ওর মধ্যস্থিত সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন চারদিনে আর আকাশসমূহ সৃষ্টি করেছেন দু’ দিনে। এ মোট ছয়দিন। এভাবেই আল্লাহ তা‘আলা আকাশ-জমিন ও এগুলোর মধ্যবর্তী যা রয়েছে সকল কিছুর সৃষ্টি সমাপ্ত করেন। (সহীহ বুখারী, অত্র সূরার তাফসীর)
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন : তিনি জমিন সৃষ্টির পর আকাশের দিকে মনোনিবেশ করেন যা ছিল ধূম্রপুঞ্জ বিশেষ। আল্লাহ তা‘আলা একে এবং পৃথিবীকে বললেন : তোমরা উভয়ে এসো ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। অর্থাৎ আমার হুকুম মেনে নিয়ে আমি যা বলি তাই হয়ে যাও, খুশি মনে অথবা বাধ্য হয়ে। উভয়েই খুশি মনে হুকুম মেনে নিতে সম্মত হলো এবং বলল : আমরা খুশি মনে আপনার নির্দেশ মেনে নিলাম। এরপর আল্লাহ তা‘আলা আকাশকে দু’দিনে সপ্তাকাশে পরিণত করেন। প্রত্যেক আকাশে তিনি ইচ্ছামত কার্যক্রম প্রতিষ্ঠিত করেন। দুনিয়ার আকাশকে তিনি তারকারাজি দ্বারা সুশোভিত করেন যেগুলো জমিনে আলো দেয় এবং ঐ শয়তানদের প্রতি ওরা সজাগ দৃষ্টি রাখে যারা ঊর্ধ্ব জগতের কিছু শোনার উদ্দেশ্যে ওপরে ওঠার ইচ্ছা করে এবং তাদেরকে অগ্নিপিণ্ড নিক্ষেপ করে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. জমিন চার দিনে এবং আকাশ দু’ দিনে মোট ছয় দিনে আকাশ-জমিন সৃষ্টি সম্পন্ন হয়েছে।
২. আকাশ-জমিন আল্লাহ তা‘আলার অনুগত।
৩. দুনিয়ার আকাশ তারকারাজি দ্বারা সুশোভিত যা শয়তানের জন্য অগ্নিপিণ্ডস্বরূপ।
৪. আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করলে এক মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু সৃষ্টি করতে পারতেন, কিন্তু বান্দাদের কাজে ধীরস্থিরতা শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি ছয় দিনে সবকিছু সৃষ্টি করেছেন।
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Are You Sure you want to Delete Pin
“” ?
Add to Collection
Bookmark
Pins
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Audio Settings