Surah Az Zumar Tafseer
Tafseer of Az-Zumar : 4
Saheeh International
If Allah had intended to take a son, He could have chosen from what He creates whatever He willed. Exalted is He; He is Allah, the One, the Prevailing.
Tafsir Fathul Mazid
Tafseer 'Tafsir Fathul Mazid' (BN)
নামকরণ ও ফাযীলাত :
(الزُّمَرُ) যুমার শব্দের অর্থ দল, গ্রুপ ইত্যাদি। এ সূরাতে জান্নাতী ও জাহান্নামী দু’টো দলের কথা বিশেষভাবে আলোচনা করায় উক্ত নামে সূরার নামকরণ করা হয়েছে।
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (নফল) সিয়াম এমন পর্যায়ক্রমে পালন করতেন যে, আমরা মনে করতাম তিনি যেন আর সিয়াম ভঙ্গই করবেন না। আবার কখনো পর্যায়ক্রমে সিয়াম পালনই করতেন না। আমরা মনে করতাম, তিনি যেন আর সিয়াম পালন করবেন না। আর তিনি প্রতি রাত্রে সূর্ াবানী ইসরাঈল ও সূরা আয্ যুমার পাঠ করতেন। (মুসনাদ আহমাদ হা. ২৫৬৬৪, নাসায়ী হা. ২৩৪৬, ইবনু কাসীর, অত্র আয়াতের তাফসীর)
সূরা যুমার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা। এ সূরার শুরুতে আল্লাহ তা‘আলার এককত্ব, যারা আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্যের ইবাদত করে তাদের ভ্রান্ত দাবী, দুনিয়ার সব কিছু আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছায় হয় কিন্তু বান্দা তাঁর সাথে কুফরী করুক তিনি তা পছন্দ করেন না, মানুষ বিপদে পড়লে আল্লাহ তা‘আলাকে ডাকে কিন্তু বিপদ থেকে মুক্তি পেলে আল্লাহ তা‘আলাকে ভুলে যায়, আবার অনেকে তাঁর সাথে শির্ক করে, যে কোন কথা শুনলেই মানা যাবে না বরং উত্তম কথা মানতে হবে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইনতেকাল করেছেন, সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা‘আলাই বান্দার জন্য যথেষ্ট, মক্কার মুশরিকদের তাওহীদে রুবুবিয়্যাহর স্বীকারোক্তি, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছে তাদের নিরাশ না হওয়ার সুসংবাদ, মুশরিকরা আল্লাহ তা‘আলাকে চিনলেও যথাযথ মর্যাদা দিতো না এবং সূরার শেষে জাহান্নামীদেরকে দলে দলে জাহান্নামে ও জান্নাতীদেরকে দলে দলে জান্নাতের নিয়ে যাওয়া হবে ও প্রহরীদের সম্ভাষণ জানানো ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
১-৪ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
মক্কার কাফির-মুশরিকরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াতকে অস্বীকার, তাঁর প্রতি অবতীর্ণ কিতাবকে অবিশ্বাস, বরং এটা মানব রচিত একটি কিতাব বলে বিশ্বাস করার কথা খণ্ডন করে আল্লাহ তা‘আলা বলেন : এ কুরআন পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে অবতারিত। এর বিধি-বিধান সত্য, এতে কোন প্রকার সন্দেহ সংশয় নেই।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
(وَإِنَّه۫ لَكِتٰبٌ عَزِيْزٌ لا - لَّا يَأْتِيْهِ الْبَاطِلُ مِنْمبَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِه۪ ط تَنْزِيْلٌ مِّنْ حَكِيْمٍ حَمِيْدٍ)
“এবং এটা অবশ্যই এক মহিমাময় গ্রন্থ। কোন মিথ্যা এতে অনুপ্রবেশ করবে না- অগ্র হতেও নয়, পশ্চাত হতেও নয়। এটা প্রজ্ঞাময়, প্রশংসনীয় আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ।” (সূরা হা-মীম আস্ সাজদাহ্ ৪১ : ৪১-৪২)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
(وَاِنَّھ۫ لَتَنْزِیْلُ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَﰏﺚنَزَلَ بِھِ الرُّوْحُ الْاَمِیْنُﰐﺫعَلٰی قَلْبِکَ لِتَکُوْنَ مِنَ الْمُنْذِرِیْنَﰑﺫبِلِسَانٍ عَرَبِیٍّ مُّبِیْنٍﰒ)
“নিশ্চয়ই এ কুরআন জগতসমূহের প্রতিপালক হতে অবতীর্ণ। জিব্রাঈল এটা নিয়ে অবতরণ করেছে তোমার হৃদয়ে, যাতে তুমি সতর্ককারী হতে পার। (অবতীর্ণ করা হয়েছে) সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।” (সূরা আশ্ শু‘আরা- ২৬ : ১৯২-১৯৫)
(فَاعْبُدِ اللّٰهَ.... الْخَالِصُ)
এখানে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদেরকে এ নির্দেশ প্রদান করছেন যে, তারা যেন একনিষ্ঠভাবে বিশুদ্ধচিত্তে একমাত্র তাঁরই ইবাদত করে এবং তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরীক বা অংশীদার না করে। কেননা তিনি ব্যতীত ইবাদতের যোগ্য আর কেউ নেই। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
(وَمَآ أُمِرُوْآ إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللّٰهَ مُخْلِصِيْنَ لَهُ الدِّيْنَ)
“তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা বিশুদ্ধচিত্তে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে।” (সূরা আল বাইয়্যিনাহ ৯৮ : ৫)
সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত আর কারো ইবাদত করা যাবে না। এমনকি নাবী-রাসূলগণেরও না। বরং নাবী-রাসূলগণের দেখানো পদ্ধতিতে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করতে হবে। এটা মূলত আল্লাহ তা‘আলারই ইবাদত। আল্লাহ তা‘আলার বাণী :
(قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللّٰهَ فَاتَّبِعُوْنِيْ يُحْبِبْكُمُ اللّٰهُ)
“তুমি বলে দাও, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস তবে আমার অনুসরণ কর। তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন ।” (সূরা আলি ইমরান ৩ : ৩১)
আর ইবাদত কবূল হওয়ার জন্য প্রধানত দুটি শর্ত রয়েছে। এ দুটি শর্ত সঠিকভাবে আদায় না করলে ইবাদত কবূল হবে না।
১. إخلاص العبادة لله وحده
একনিষ্ঠভাবে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার উপাসনা করা। অর্থাৎ ইবাদত কেবলমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্যই হতে হবে, অন্য কারো জন্য নয়। আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত যত মা‘বূদ রয়েছে সকলেই ভ্রান্ত।
২. متابعة لسنة الرسول
ইবাদত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দেখানো পদ্ধতিতে হতে হবে। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেভাবে ইবাদত করেছেন ও করতে বলেছেন ঠিক সেভাবেই আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করতে হবে।
আয়াতে دين অর্থ ইবাদত ও আনুগত্য এবং إخلاص অর্থ বিশুদ্ধচিত্তে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে নেক আমল করা। এ আয়াতটি নিয়্যাত ওয়াজিব ও তাতে ইখলাস থাকা জরুরী হওয়ার একটি দলীল। হাদীসেও খালেস নিয়্যাতের গুরুত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে। প্রত্যেক আমলের ফলাফল নিয়্যাতের ওপর নির্ভরশীল। (সহীহ বুখারী হা. ১) আর এ নিয়্যাত হবে মনে মনে, মুখে উচ্চারণ করে নয়। কেননা মুখে উচ্চারণ করে নিয়্যাত করার কোন প্রমাণ নেই। তবে হাজ্জের নিয়্যাত ব্যতীত, কেননা হাজ্জের নিয়্যাত সশব্দে মুখে উচ্চারণ করে বলতে হয়।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা মক্কার মুশরিকদের গাইরুল্লাহর ইবাদত করার কারণ বর্ণনা করছেন, যে কারণ আমাদের দেশের একশ্রেণির মুসলিম নামধারী মাযার পূজারীদের মাঝে বিদ্যমান। তাদেরকে অন্যান্য মা‘বূদের ইবাদত করার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলত : আমরা মূলত এদের ইবাদত করি না, আমরা কেবল এদের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য লাভ করতে চাই। যার ফলে আমরা তাদের উপাসনা করি। তাই আল্লাহ তা‘আলা ও ইবাদতের মাঝে কোন মাযারে শায়িত ব্যক্তি, পীর, দরবেশ ও ওলী-আওলিয়ার মধ্যস্থতা স্থাপন করা যাবে না, বরং সরাসরি আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করতে হবে এবং সরাসরি তাঁর কাছে চাইতে হবে।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা ঐ সকল মুশরিকদের কথার উত্তর দিচ্ছেন যারা বলে- আল্লাহ তা‘আলার সন্তান রয়েছে। যেমন মুশরিকরা বলত- ফেরেশতারা আল্লাহ তা‘আলার কন্যা। ইয়াহূদীরা বলত, উযায়ের (আঃ) আল্লাহ তা‘আলার পুত্র। তাদের এ কথা খণ্ডন করতে গিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন : আল্লাহ তা‘আলা সন্তান গ্রহণ করার ইচ্ছা করলে তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা তিনি সন্তান মনোনীত করতেন অর্থাৎ তারা যা নির্বাচন করে এমনটি নয় বরং তিনি চাইলে তাঁর পছন্দ মতো সন্তান গ্রহণ করতে পারতেন।
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন :
(قُلْ اِنْ کَانَ لِلرَّحْمٰنِ وَلَدٌﺣ فَاَنَا اَوَّلُ الْعٰبِدِیْنَ)
“বল : দয়াময় আল্লাহর কোন সন্তান থাকলে আমিই হতাম তাঁর উপাসকগণের সর্বপ্রথম।” (সূরা যুখরুফ ৪৩ : ৮১)
সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা সন্তান-সন্ততি, স্ত্রী-পরিজন গ্রহণ করা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র। তিনি এক ও তাঁর কোনই অংশীদার নেই।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. কুরআন আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে অবতারিত কিতাব। এর বিধি-বিধান সত্য।
২. আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করা যাবে না।
৩. ইবাদত হতে হবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দেখানো পদ্ধতিতে।
৪. আল্লাহ তা‘আলা সর্বপ্রকার সন্তান-সন্ততি, স্ত্রী-পরিজন ও অংশীদার থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র।
৫. আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর ইবাদত করার মাঝে কোন মধ্যস্থতা অবলম্বন করা যাবে না।
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Are You Sure you want to Delete Pin
“” ?
Add to Collection
Bookmark
Pins
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Audio Settings