Surah Saba Tafseer
Tafseer of Saba : 32
Saheeh International
Those who were arrogant will say to those who were oppressed, "Did we avert you from guidance after it had come to you? Rather, you were criminals."
Tafsir Fathul Mazid
Tafseer 'Tafsir Fathul Mazid' (BN)
৩১-৩৩ নং আয়াতের তাফসীর:
পূর্বের আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছেন যারা কিয়ামত সংঘটিত হওয়াকে অস্বীকার করে তারা চায় তা দ্রুত সংঘটিত হোক, যাতে তারা তা প্রত্যক্ষ করতে পারে। অত্র আয়াতে কাফিরদের ঔদ্ধত্যপনা ও হকের প্রতি জিদের বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: এসব কাফিররা বলে যে, আমরা এ কুরআনের প্রতি কক্ষনো বিশ্বাস স্থাপন করব না এবং এর পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের প্রতিও না। যদিও তারা এ ব্যাপারে বহু দলীল প্রমাণ প্রত্যক্ষ করে, তাও মেনে নিবে না। কিয়ামত অস্বীকার ও উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কারণে কিয়ামতের মাঠে তাদের কিরূপ অবস্থা হবে তার বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলেন: এসব কিয়ামত অস্বীকারকারী যালেমরা কিয়ামতের মাঠে আল্লাহ তা‘আলার সামনে যখন দণ্ডায়মান হবে তখন তারা পরস্পর কথা কাটাকাটি করবে। সমাজে সাধারণত দু’ শ্রেণীর মানুষ থাকে, শাসক ও ক্ষমতাবান এবং শোষিত ও দুর্বল। দুর্বলরা সর্বদা নির্যাতিত হয়ে থাকে। কিয়ামতের দিন দুর্বলরা দোষারোপ করে সবলদেরকে বলবে, যদি আপনারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট না করতেন তাহলে আমরা মু’মিন হতাম। আপনারা আমাদেরকে ঈমান আনতে বাধা দিয়েছেন, ঈমান আনলে নির্যাতন করেছেন। ফলে আমরা ঈমান আনতে পারিনি। তাদের এ কথার জবাবে শাসক ও সবল ব্যক্তিরা বলবে: তোমাদের নিকট সৎ পথের নির্দেশ আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে শক্তি ও ভয় দেখিয়ে ওটা হতে নিবৃত্ত করেছিলাম? মূলত তোমরা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়েছ। তখন দুর্বলরা বলবে: প্রকৃতপক্ষে তোমরাই দিবা-রাত্রি চক্রান্তে লিপ্ত ছিলে। তোমরা আমাদেরকে নির্দেশ দিতে যেন আল্লাহ তা‘আলার সাথে কুফরী করি, তাঁর সাথে শিরক করি। এ দিকেই আমাদেরকে আহ্বান করতে। এটাই ছিল আমাদের ঈমান থেকে বিরত থাকার কারণ। এভাবে একদল অপরদলকে দোষারোপ করবে।
আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(إِذْ تَبَرَّأَ الَّذِيْنَ اتُّبِعُوْا مِنَ الَّذِيْنَ اتَّبَعُوْا وَرَأَوُا الْعَذَابَ وَتَقَطَّعَتْ بِهِمُ الْأَسْبَابُ -وَقَالَ الَّذِيْنَ اتَّبَعُوْا لَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَتَبَرَّأَ مِنْهُمْ كَمَا تَبَرَّأُوْا مِنَّا ط كَذٰلِكَ يُرِيْهِمُ اللّٰهُ أَعْمَالَهُمْ حَسَرٰتٍ عَلَيْهِمْ ط وَمَا هُمْ بِخٰرِجِيْنَ مِنَ النَّارِ )
“(কি করুণ অবস্থা হবে তখন) যখন অনুসরণীয় নেতারা অনুসারীদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে তখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে ও তাদের সকল সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আর অনুসরণকারীরা বলবে, যদি আমাদের জন্য (দুনিয়াতে) ফিরে যাওয়ার সুযোগ থাকত তাহলে তারা যেভাবে আমাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে আমরাও সেভাবে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করতাম। এভাবে আল্লাহ তাদের কার্যকলাপ তাদের সামনে দুঃখজনকভাবে প্রদর্শন করবেন এবং তারা জাহান্নাম হতে বের হতে পারবে না।” (সূরা বাকারাহ ২:১৬৬-১৬৭)
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلٰي يَدَيْهِ يَقُوْلُ يٰلَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُوْلِ سَبِيْلًا -يٰوَيْلَتٰي لَيْتَنِيْ لَمْ أَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيْلًا لَقَدْ أَضَلَّنِيْ عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَا۬ءَنِيْ ط وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِلْإِنْسَانِ خَذُوْلًا)
“যালিম ব্যক্তি সেদিন নিজ দু’হাত দংশন করতে করতে বলবে, ‘হায়! আমি যদি রাসূলের সাথে সৎ পথ অবলম্বন করতাম! ‘হায়, দুর্ভোগ আমার! আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম! ‘আমাকে তো সে বিভ্রান্ত করেছিল কুরআন থেকে আমার নিকট তা পৌঁছার পর।’ শয়তান তো মানুষের জন্য মহাপ্রতারক।” (সূরা ফুরকান ২৫:২৭)
অবশেষে তাদেরকে গলদেশে শৃঙ্খল পরিয়ে তারা যা করত তারই প্রতিফল দেয়া হবে। যারা পথভ্রষ্ট করেছিল এবং যারা হয়েছিল উভয়দলই শাস্তিপ্রাপ্ত হবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কোন কিছুর দলীল-প্রমাণ ছাড়া অন্ধ অনুসরণ করা যাবে না।
২. কেউ কারো পাপের জন্য শাস্তিপ্রাপ্ত হবে না। প্রত্যেকে নিজ নিজ পাপের শাস্তি প্রাপ্ত হবে।
৩. কাউকে দোষারোপ করে শাস্তি থেকে নাযাত পাওয়া যাবে না।
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Are You Sure you want to Delete Pin
“” ?
Add to Collection
Bookmark
Pins
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Audio Settings