Surah Ar Rum Tafseer
Tafseer of Ar-Rum : 38
Saheeh International
So give the relative his right, as well as the needy and the traveler. That is best for those who desire the countenance of Allah, and it is they who will be the successful.
Tafsir Fathul Mazid
Tafseer 'Tafsir Fathul Mazid' (BN)
৩৮-৪০ নং আয়াতের তাফসীর:
পূর্বের আয়াতে বলা হয়েছে যে, রিযিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা। তিনি যার জন্য ইচ্ছা করেন রিযিক বাড়িয়ে দেন, যার জন্য ইচ্ছা করেন রিযিক কমিয়ে দেন। এ থেকে জানা গেল, কেউ যদি আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত খাতে রিযিক ব্যয় করে তাহলে তার কারণে রিযিক কমে না। পক্ষান্তরে কেউ যদি কৃপণতা করে এবং নিজের ধন-সম্পদ সংরক্ষিত রাখার চেষ্টা করে তবে এর ফলে ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পায় না। এ বিষয়বস্তুর সাথে মিল রেখে আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বান্দাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেনন তোমরা আত্মীয়-স্বজন, মিসকীন ও মুসাফিরদের হক আদায় করে দাও। এটা তাদের হক, আর প্রাপকের হক পরিশোধ করা তো ইনসাফের দাবী, এটা কোন অনুগ্রহ নয়।
মুজাহিদ বলেন: যে ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজন গরীব, সে তাদের বাদ দিয়ে অন্যদের দান করলে তা আল্লাহ তা‘আলার কাছে গ্রহণীয় হবে না। কেবল আর্থিক সাহায্য আত্মীয়-স্বজনের প্রাপ্য নয়, বরং তাদের দেখাশুনা করা, দৈহিক সেবা করা, মৌখিক সহানূভুতি ও সান্ত্বনা দেয়া এবং অসুস্থ হলে দেখা করা ইত্যাদি সবই শামিল। (কুরতুবী) আত্মীয়-স্বজনের পরেই মিসকীন ও মুসাফিরের প্রাপ্য বর্ণনা করা হয়েছে। এটাও ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
সুতরাং যারা আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি ও পরকালের নাজাতের আশা করে তাদের উচিত নিকটাত্মীয়, মিসকীন ও মুসাফিরসহ সকলকে তাদের যথাযথ প্রাপ্য দিয়ে দেয়া।
الربا শব্দের অর্থ বৃদ্ধি পাওয়া, অতিরিক্ত, বেশি। অর্থাৎ মানুষকে দান করা, সহযোগিতা করা এবং কর্য দেয়া এ আশায় যে, আমি তাদের সহযোগিতা করলে বা কর্য দিলে ভবিষ্যতে বেশি কিছু পাব, এমন আশায় দান করলে আল্লাহ তা‘আলার কাছে তার প্রতিদান বেশি পাওয়া যাবে না। কারণ সে অসৎ উদ্দেশ্যে দান করেছে বা কর্য দিয়েছে, আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টির জন্য দান করেনি। যে ব্যক্তি বেশি পাওয়ার আশায় বা মানুষকে দেখানোর জন্য দান করবে বা কর্য দেবে এমন দানের নেকী আল্লাহ তা‘আলার কাছে বৃদ্ধি পায় না।
অতএব দান করাতে সম্পদ বৃদ্ধি পায়, কিন্তু অধিক পাবার আশায় দান করলে তাতে কোন কিছুই বৃদ্ধি পায় না। অধিকন্তু আরো সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়। আর আল্লাহ তা‘আলা এমনটি করতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَلَا تَمْنُنْ تَسْتَكْثِرُ)
“অধিক লাভের আশায় দান (ইহ্সান) কর না।” (সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৬)
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, রিযিক দিয়েছেন, আর আয়ু শেষ হয়ে গেলে মৃত্যু দান করবেন। অতঃপর পুনরায় হিসাব-নিকাশের জন্য জীবিত করবেন। এসকল কাজে তিনি একক, অন্য কারো হাত নেই। তাই আল্লাহ তা‘আলা মুশরিকদেরকে প্রশ্নাকারে জিজ্ঞাসা করছেন: তোমাদের মা‘বূদেরা এসবের কোন একটি কাজ করতে পারবে? না, কখনো পারবে না। অতএব এরূপ অক্ষম মা‘বূদ আল্লাহ তা‘আলার সাথে অংশীদার হবে তা থেকে তিনি পবিত্র ও অনেক ঊর্ধ্বে। অতএব যিনি এত সব জিনিসের ওপর ক্ষমতাবান তিনিই প্রভু এবং তিনিই উপাসনা পাওয়ার যোগ্য, অন্য কেউ নয়। সুতরাং যারা অক্ষম মা‘বূদ তারা কখনো উপাসনা পাওয়ার যোগ্য হতে পারে না।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. প্রত্যেককে তার যথাযথ প্রাপ্য প্রদান করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
২. বেশি পাওয়ার আশায় দান করা যাবে না। বরং আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টির জন্য দান করতে হবে।
৩. সকল কিছুর ওপর একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমতাবান, অন্য কেউ নয়।
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Are You Sure you want to Delete Pin
“” ?
Add to Collection
Bookmark
Pins
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Audio Settings