Surah Al Baqarah Tafseer
Tafseer of Al-Baqarah : 269
Saheeh International
He gives wisdom to whom He wills, and whoever has been given wisdom has certainly been given much good. And none will remember except those of understanding.
Ibn Kathir Partial
Tafseer 'Ibn Kathir Partial' (BN)
হালাল উপার্জন থেকেই ব্যয় করতে হবে
মহান আল্লাহ্ তাঁর মু’মিন বান্দাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তারা যেন ব্যবসার মাল, যা মহান আল্লাহ্ তাদরেকে দান করেছেন এবং সোনা, রূপা, শস্য ইত্যাদি যা তাদেরকে ভূমি হতে বের করে দেয়া হয়েছে তা হতে উত্তম ও পছন্দনীয় জিনিস তাঁর পথে খরচ করে। তারা যেন পচা, গলা ও মন্দ জিনিস মহান আল্লাহ্র পথে না দেয়। মহান আল্লাহ্ অত্যন্ত পবিত্র, তিনি অপবিত্র জিনিস গ্রহণ করেন না। আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর বান্দাদেরকে লক্ষ্য করে বলেনঃ ﴿وَلَا تَیَمَّمُوا الْخَبِیْثَ مِنْهُ تُنْفِقُوْنَ﴾ এমন জিনিস তোমরা মহান আল্লাহ্র পথে ব্যয় করার ইচ্ছা পোষণ করো না, যা তোমাদেরকে দেয়া হলে তোমরাও তা গ্রহণ করতে সম্মত হতে না।’ সুতরাং তোমরা এরকম জিনিস কিরূপে মহান আল্লাহ্কে দিতে চাও? আর তিনি তা গ্রহণই বা করবেন কেন? তবে তোমরা যদি সম্পদ হাত ছাড়া হতে দেখে নিজের অধিকারের বিনিময়ে কোন পচা-গলা জিনিস বাধ্য হয়ে গ্রহণ করে নাও তাহলে অন্য কথা। কিন্তু মহান আল্লাহ্ তো তোমাদের মতো বাধ্য ও দুর্বল নন যে, তিনি এ সব জঘন্য জিনিস গ্রহণ করবেন? তিনি কোন অবস্থায়ই এইসব জিনিস গ্রহণ করেন না।
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
إن اللَّهَ قَسَمَ بَيْنَكُمْ أَخْلَاقَكُمْ، كَمَا قَسَمَ بَيْنَكُمْ أَرْزَاقَكُمْ، وَإِنَّ اللَّهَ يُعْطِي الدُّنْيَا مَنْ يُحِبُّ وَمَنْ لَا يُحِبُّ، وَلَا يُعْطِي الدِّينَ إِلَّا لِمَنْ أحبَّ، فَمَنْ أَعْطَاهُ اللَّهُ الدِّينَ فَقَدْ أَحَبَّهُ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَا يُسْلِمُ عَبْدٌّ حَتَّى يُسلِمَ قلبُه وَلِسَانُهُ، وَلَا يُؤْمِنُ حَتَّى يَأْمَنَ جارُه بَوَائِقَهُ". قَالُوا: وَمَا بَوَائِقُهُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ؟. قَالَ: "غَشَمُه وَظُلْمُهُ، وَلَا يَكْسِبُ عَبْدٌ مَالًا مِنْ حَرَامٍ فينفقَ مِنْهُ فيباركَ لَهُ فِيهِ، وَلَا يتصدقُ بِهِ فَيُقْبَلَ مِنْهُ، وَلَا يَتْرُكُهُ خَلْفَ ظَهْرِهِ إِلَّا كَانَ زَادَهُ إِلَى النَّارِ، إِنَّ اللَّهَ لَا يَمْحُو السَّيِّئَ بِالسَّيِّئِ، وَلَكِنْ يَمْحُو السَّيِّئَ بِالْحَسَنِ، إِنَّ الْخَبِيثَ لَا يَمْحُو الْخَبِيثَ.
‘মহান আল্লাহ্ যেমন তোমাদের মাঝে তোমাদের রিযিক বন্টন করে দিয়েছেন, তদ্রুপ তোমাদের চরিত্রও বন্টন করে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ্ দুনিয়া তাঁর বন্ধুদেরকেও দেন এবং শত্রুদেরকেও দেন। কিন্তু দ্বীন শুধু তার বন্ধুদেরকেই দান করেন। অতএব যে দ্বীন লাভ করে সেই মহান আল্লাহ্র প্রিয় পাত্র। ঐ আল্লাহ্র শপথ যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, কোন ব্যক্তি মুসলিম হতে পারে না যে পর্যন্ত না তার প্রতিবেশি তার থেকে নির্ভয় হয়। জনগণ প্রশ্ন করেন তার কষ্ট কি, হে রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ? জনগণের প্রশ্নের উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন কষ্টের ভাবার্থ হচ্ছে প্রতারণা ও উৎপীড়ন। যে ব্যক্তি অবৈধ পন্থায় সম্পদ উপার্জন করে, মহান আল্লাহ্ তাতে কল্যাণ দান করেন না এবং তার দান-সাদাকাহও গ্রহণ করেন না। যা সে রেখে যায় তার জন্য তা জাহান্নামে যাবার পাথেয় ও কারণ হয়ে থাকে। মহান আল্লাহ্ মন্দকে মন্দ দ্বারা প্রতিহত করেন না বরং মন্দকে ভালো দ্বারা প্রতিহত করেন। কেননা অপবিত্র বস্তু কখনো অপবিত্রতা দূর করতে পারে না।’ (হাদীসটি য‘ঈফ। মুসনাদ আহমাদ -১/৩৮৭/৩৬৭২, আল মাজমা‘উয যাওয়ায়িদ-১০/২২৮, ১/৫৩)
বারা’ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) বর্ণনা করেন, খেজুরের মৌসুমে আনসারগণ নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী খেজুরের গুচ্ছ এনে মাসজিদে নাবাবীর দু’টি স্তম্ভের মধ্যে রজ্জুতে ঝুলিয়ে দিতেন। ঐগুলো আসহাব-ই সুফ্ফা ও দরিদ্র মুজাহিরগণ ক্ষুধার সময় খেয়ে নিতেন। সাদাকাহ করার প্রতি আগ্রহ কম ছিলো এরূপ একটি লোক তাতে খারাপ খেজুর এনে ঝুলিয়ে দেন। সেই সময় এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয় এবং তাতে বলা হয়, যদি তোমাদেরকে এরকমই জিনিস উপঢৌকন স্বরূপ দেয়া হয় তাহলে তোমরা তা কখনো গ্রহণ করতে না। অবশ্য মনে না চাইলেও লজ্জার খাতিরে তা গ্রহণ করে নাও সেটা অন্য কথা। এই আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার পর আমাদের মধ্যে প্রত্যেকেই ভালো ভালো খেজুর নিয়ে আসতেন। (তাফসীর তাবারী -৫/৫৫৯)
ইবনু আবী হাতিম (রহঃ) -এর গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, মানুষ হালকা ধরনের খেজুর ও খারাপ ফল দানের জন্য বের করতো। ফলে এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয় এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই রকম জিনিস দান করতে নিষেধ করেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাগফাল (রহঃ) বলেন যে, মু’মিনের উপার্জন কখনো জঘন্য হতে পারে না। ভাবার্থ এই যে তোমরা বাজে জিনিস দান করো না।
মুসনাদ আহমাদের হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট গো সাপের অর্থাৎ গুইসাপের গোশত আনা হলে তিনি নিজেও খেলেন না এবং কাউকে খেতে নিষেধও করলেন না। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেনঃ কোন মিসকীনকে দিবো কি? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা নিজেরা যা খেতে চাও না তা অপকে খেতে দিয়ো না। বারা’ (রাঃ) বলেনঃ যখন তোমাদের কারো ওপর কোন দাবি থাকে এবং সে তোমাকে এমন জিনিস দেয় যা বাজে ও মূল্যহীন তবে তোমরা তা কখনো গ্রহণ করবে না, কিন্তু তোমাদের হক নষ্ট হতে দেখবে তখন তোমরা চক্ষু বন্ধ করে তা নিয়ে নিবে।
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ ‘এর ভাবার্থ এই যে, তোমরা কাউকে উত্তম মাল ধার দিয়েছো, কিন্তু পরিশোধ করার সময় সে নিকৃষ্ট মাল নিয়ে আসবে, এরূপ অবস্থায় তোমরা কখনো ঐ মাল গ্রহণ করবে না। আর যদি গ্রহণ করো তাহলে মূল্য কমিয়ে দিয়ে তা গ্রহণ করবে। তাই যে জিনিস তোমরা নিজেদের হকের বিনিময়েই গ্রহণ করছো না, তা তোমরা মহান আল্লাহ্র হকের বিনিময়ে কেন দিবে? সুতরাং তোমরা উত্তম ও পছন্দনীয় ধন-সম্পদ মহান আল্লাহ্র পথে খরচ করো। এর অর্থই হচ্ছে নিম্নের আয়াতটিঃ ﴿ لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتّٰى تُنْفِقُوْا مِمَّا تُحِبُّوْنَ﴾
তোমরা যা ভালোবাসো তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনোই কল্যাণ লাভ করতে পারবে না। (৩নং সূরাহ্ আলি ‘ইমরান, আয়াত নং ৯২)
অতঃপর মহান আল্লাহ্ বলেনঃ ﴿وَاعْلَمُوْۤااَنَّاللّٰهَغَنِیٌّحَمِیْدٌ﴾ মহান আল্লাহ্ তোমাদেরকে তাঁর পথে উত্তম ও পছন্দনীয় ধন-সম্পদ খরচ করার নির্দেশ প্রদান করলেন, এজন্য তোমরা এই কথা মনে করো না যে, মহান আল্লাহ্ তোমাদের মুখাপেক্ষী। না, না তিনি তো সম্পূর্ণরূপে অভাবমুক্ত। তিনি কারো প্রত্যাশী নন বরং তোমরা সবাই তার মুখাপেক্ষী। তাঁর নির্দেশ শুধু এজন্যই যে, দরিদ্র লোকেরাও যেন দুনিয়ার নি‘য়ামতসমূহ হতে বঞ্চিত না থাকে। যেমন অন্য জায়গায় কুরবানীর হুকুমের পরে মহান আল্লাহ্ বলেছেনঃ ﴿ لَنْ یَّنَالَ اللّٰهَ لُحُوْمُهَا وَ لَا دِمَآؤُهَا وَ لٰكِنْ یَّنَالُهُ التَّقْوٰى مِنْكُمْ ﴾
মহান আল্লাহ্র কাছে পৌঁছে না কুরবানীর পশুর গোশত এবং রক্ত, বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। (২২নং সূরাহ্ হাজ্জ, আয়াত নং ৩৭) তিনি বিপুলদাতা। তাঁর ধনভাণ্ডারে কোন কিছুর স্বল্পতা নেই। হালাল ও পবিত্র মাল হতে সাদাকাহ বের করে মহান আল্লাহ্র অনুগ্রহ ও মহাদানের প্রতি লক্ষ্য করো। এর বহুগুণ বৃদ্ধি করে তিনি তোমাদেরকে প্রতিদান দিবেন। তিনি দরিদ্রও নন, অত্যাচারীও নন। তিনি প্রশংসিত। সমস্ত কথায় ও কাজে তাঁরই প্রশংসা করা হয়। তিনি ছাড়া কেউ ‘ইবাদতের যোগ্য নয়। তিনি সারা জগতের পালনকর্তা। তিনি ব্যতীত কেউ কারো পালনকর্তা নয়।
সৎ কাজের ব্যাপারে শায়তানী কুমন্ত্রণা
মহান আল্লাহ্ বলেনঃ
﴿ اَلشَّیْطٰنُ یَعِدُكُمُ الْفَقْرَ وَیَاْمُرُكُمْ بِالْفَحْشَآءِۚ وَاللّٰهُ یَعِدُكُمْ مَّغْفِرَةً مِّنْهُ وَ فَضْلًا وَاللّٰهُ وَاسِعٌ عَلِیْمٌ﴾
‘শায়তান তোমাদেরকে অভাবের ভীতি প্রদর্শন করে এবং তোমাদেরকে অশ্লীলতার আদেশ করে এবং মহান আল্লাহ্ তোমাদেরকে তাঁর নিকট হতে ক্ষমা ও দয়ার অঙ্গীকার করেন। মহান আল্লাহ্ হচ্ছেন বিপুলদাতা, সর্বজ্ঞ।’ ইবনু আবী হাতিম (রহঃ) বর্ণনা করেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
إِنْ لِلشَّيْطَانِ لَلَمّة بِابْنِ آدَمَ، وللمَلك لَمة، فَأَمَّا لَمَّةُ الشَّيْطَانِ فَإِيعَادٌ بِالشَّرِّ وَتَكْذِيبٌ بِالْحَقِّ، وَأَمَّا لَمَّةُ الْمَلَكِ فَإِيعَادٌ بِالْخَيْرِ وَتَصْدِيقٌ بِالْحَقِّ. فَمَنْ وَجَدَ ذَلِكَ فليعلَمْ أَنَّهُ مِنَ اللَّهِ، فَلْيحمَد اللَّهَ، وَمَنْ وَجَدَ الْأُخْرَى فَلْيَتَعَوَّذْ مِنَ الشَّيْطَانِ.
‘বানী আদম (আঃ) -এর মনে শায়তান এক ধারণা জন্মিয়ে থাকে এবং ফিরিশতা এক ধারণা জন্মিয়ে থাকে। শায়তান দুষ্টমি ও সত্য অবিশ্বাস করার প্রতি উত্তেজিত করে এবং ফিরিশতা সৎ কাজের প্রতি এবং সত্যকে স্বীকার করার প্রতি উৎসাহিত করে। যার মনে ভালো ধারণা আসবে সে যেন মহান আল্লাহ্র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং জেনে নেয় যে, এটা মহান আল্লাহ্র পক্ষ হতে হয়েছে। আর যার মনে কু-ধারণা আসবে সে যেন মহান আল্লাহ্র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে। শেষে তিনি সূরাহ্ আল বাক্বারার ২৬৮নং আয়াতটি পাঠ করেন। (হাদীসটি সহীহ। জামি‘ তিরমিযী-৫/২০৪/২৯৮৮, সহীহ ইবনু হিব্বান-১/৪০, ২/১৭১/৯৯৩, সুনান নাসাঈ -৬/৩০৫/১১০৫১, তাফসীর ইবনু আবী হাতিম-২/১০৯০)
﴿ اَلشَّیْطٰنُ یَعِدُكُمُ الْفَقْرَ﴾
এ পবিত্র আয়াতটির ভাবার্থ এই যে, মহান আল্লাহ্র পথে খরচ করতে শায়তান বাধা দেয় এবং মনে কু-ধারণা জন্মিয়ে দেয়, এভাবে খরচ করলে সে দরিদ্র হয়ে যাবে। এ কাজ হতে বিরত রাখার পর তাকে পাপের কাজের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে এবং মহান আল্লাহ্র অবাধ্যতার কাজে, অবৈধ কাজে এবং সত্যের বিরুদ্ধাচারণে উত্তেজিত করে। পক্ষান্তরে মহান আল্লাহ্ এর বিপরীত নির্দেশ দেন যে, সে যেন তার পথে খরচ করা হতে বিরত না হয় এবং শায়তানের ধমকের উল্টো বলেনঃ যে ঐ দানের বিনিময়ে তিনি তার পাপসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। আর সে যে তাকে দরিদ্র হয়ে যাওয়ার ভয় দেখাচ্ছে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মহান আল্লাহ্ তাকে তার সীমাহীন অনুগ্রহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে বলছেন। তার চেয়ে অধিক দাতা, দয়ালু ও অনুগ্রহশীল আর কে হতে পারে? আর পরিণামের জ্ঞান তার অপেক্ষা বেশি কার থাকতে পারে।
হিকমাত’ এর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ
এখানে ‘হিকমা’ শব্দের অর্থ হচ্ছে কুর’আনুল কারীম ও হাদীসের পূর্ণপারদর্শীতা লাভ, যার দ্বারা রহিতকৃত ও রহিতকারী, স্পষ্ট ও অস্পষ্ট, পূর্বের ও পরের, হালাল ও হারামের এবং উপমার আয়াতসমূহের পূর্ণ পরিচয় লাভ করা যায়। ভালো-মন্দ করতে সবাই পারে, কিন্তু এর ব্যাখ্যা ও অনুধাবন হচ্ছে ঐ হিকমাত, যা মহান আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা দান করেন। পৃথিবীতে এরূপ বহু লোক রয়েছে যারা ইহলৌকিক বিদ্যায় খুব পারদর্শী। দুনিয়ার বিষয়সমূহে তারা পূর্ণ জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে থাকে। কিন্তু তারা ধর্ম বিষয়ে একেবারেই অজ্ঞ। আবার পৃথিবীতে বহু লোক এমনো রয়েছেন যারা ইহলৌকিক বিদ্যায় দুর্বল বটে, কিন্তু শারী‘আতের বিদ্যায় বড়ই পারদর্শী। সুতরাং এটাই ঐ হিকমাত যা মহান আল্লাহ্ তাদেরকে দিয়েছেন এবং অন্যদেরকে বঞ্চিত রেখেছেন। সুদ্দী (রহঃ) বলেন যে, এখানে হিকমাতের ভাবার্থ হচ্ছে ‘নাবুওয়াত’। কিন্তু সঠিক এই যে, ‘হিকমাত’ শব্দটির মধ্যে এ সবই মিলিত রয়েছে। আর নাবুওয়াত হচ্ছে এর উঁঁচু ও বড় অংশ এবং এটা শুধু নবীগণের জন্যই নির্দিষ্ট রয়েছে। তারা ছাড়া এটি কেউ লাভ করতে পারে না। কিন্তু যারা নবীগণের অনুসারী তাদেরকে মহান আল্লাহ্ হিকমাতের অন্যান্য অংশ হতে বঞ্চিত রাখেন নি। ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ‘আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছিঃ
لَا حَسَدَ إِلَّا فِي اثْنَتَيْنِ: رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالًا فَسَلَّطَهُ عَلَى هَلَكَتِهِ فِي الْحَقِّ، وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ حِكْمَةً فَهُوَ يَقْضِي بِهَا وَيُعَلِّمُهَا.
‘দুই ব্যক্তি ছাড়া কারো প্রতি হিংসা করা যায় না। এক ঐ ব্যক্তি যাকে মহান আল্লাহ্ ধন-সম্পদ দিয়েছেন। অতঃপর তাকে ঐ ধন-সম্পদ মহান আল্লাহ্র পথে খরচ করার তাওফীক প্রদান করেছেন। দ্বিতীয় ঐ ব্যক্তি যাকে মহান আল্লাহ্ প্রজ্ঞা দান করেছেন, অতঃপর সে সেই প্রজ্ঞা অনুযায়ী মীমাংসা করে এবং তা শিক্ষা দেয়। উপদেশ তারাই গ্রহণ করে যারা জ্ঞান ও বিবেকের অধিকারী।’ (মুসনাদ আহমাদ -১/৪৩২, সহীহুল বুখারী- ১/১৯৯/৭৩, ফাতহুল বারী ১/১৯৯, সহীহ মুসলিম-১/২৬৮/৫৫৯, সুনান নাসাঈ -৩/৪২৬, সুনান ইবনু মাজাহ-২/১৪০৭/৪২০৮) অর্থাৎ যারা মহান আল্লাহ্র কালাম ও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর হাদীস পড়ে বুঝার চেষ্টা করে, কথা মনে রাখে এবং ভাবার্থের প্রতি মনোযোগ দেয় তারাই ভাবার্থ উপলদ্ধি করতে পারে। সুতরাং উপদেশ দ্বারা তারাই উপকৃত হয়।
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Are You Sure you want to Delete Pin
“” ?
Add to Collection
Bookmark
Pins
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Audio Settings