Surah Al Qasas Tafseer
Tafseer of Al-Qasas : 28
Saheeh International
[Moses] said, "That is [established] between me and you. Whichever of the two terms I complete - there is no injustice to me, and Allah, over what we say, is Witness."
Ibn Kathir Full
Tafseer 'Ibn Kathir Full' (BN)
২৫-২৮ নং আয়াতের তাফসীর
এই মেয়ে দু’টির বকরীগুলোকে যখন হযরত মূসা (আঃ) পানি পান করিয়ে দিলেন তখন তারা তাদের বকরীগুলো নিয়ে বাড়ী ফিরে গেল। তাদের পিতা যখন দেখলেন যে, তাঁর মেয়েরা সময়ের পূর্বেই ঐদিন বাড়ীতে ফিরে গেছে তখন তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেনঃ “ব্যাপার কি?” তারা উত্তরে সত্যভাবে ঘটনাটি বলে দিলো। তিনি তৎক্ষণাৎ তাদের একজনকে পাঠিয়ে দিলেন হযরত মূসা (আঃ)-কে ডেকে আনতে। মেয়েটি হযরত মূসা (আঃ)-এর নিকট আসলো। সে আসলো সতী-সাধ্বী মেয়েরা যেভাবে পথে চলে সেই ভাবে। অর্থাৎ সে আসলো অত্যন্ত লজ্জাজড়িত চরণে চাদর দ্বারা সারা দেহ আবৃত করে। মুখমণ্ডলও সে চাদরের অঞ্চল দ্বারা ঢেকে রেখেছিল। অতঃপর তার সত্যবাদিতা ও বুদ্ধিমত্তায় বিস্মিত হতে হয় যে, সে আমার পিতা তোমাকে ডাকছেন’ একথা বললো না। কেননা, এতে সন্দেহের অবকাশ ছিল। বরং সে পরিষ্কারভাবে বললোঃ “আমাদের জানোয়ারগুলোকে পানি পান করানোর পারিশ্রমিক দেয়ার জন্যে আমার পিতা তোমাকে ডাকছেন।" হযরত মূসা কালীমুল্লাহ (আঃ) ছিলেন ক্ষুধার্ত ও অসহায়, তাই তিনি এই সুযোগকে গনীমত মনে করলেন। তার নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে একজন সদাশয় ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি মনে করে তাঁর প্রশ্নের উত্তরে তার কাছে তিনি সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করলেন। তাঁর ঘটনা শুনে নারীদ্বয়ের পিতা তাঁকে সহানুভূতির সুরে বললেনঃ “তোমার আর কোন ভয় নেই। ঐ অত্যাচারীদের কবল হতে তুমি রক্ষা পেয়ে গেছ। এখানে তাদের কোন শাসন কর্তৃত্ব নেই।"
কোন কোন তাফসীরকার বলেন যে, এই সম্ভ্রান্ত লোকটি ছিলেন হযরত শুআ’য়েব (আঃ), যিনি মাদইয়ানবাসীর নিকট আল্লাহর নবীরূপে প্রেরিত হয়েছিলেন। প্রসিদ্ধ উক্তিও এটাই বটে। ইমাম হাসান বসরী (রঃ) এবং আরো বহু আলেম একথাই বলেছেন।
ইমাম তিবরানী বর্ণনা করেছেন যে, হযরত সালমা ইবনে সা’দ আলগুযযা (রাঃ) স্বীয় কওমের পক্ষ হতে দূতরূপে রাসূলুল্লাহর দরবারে হাযির হলে তিনি বলেনঃ “হযরত শুআ’য়েব (আঃ)-এর গোত্রীয় লোক এবং হযরত মূসা (আঃ)-এর শ্বশুর গোষ্ঠীর লোকের আগমন শুভ হোক! তোমাদেরকে সুপথে পরিচালিত করা হয়েছে। কেউ কেউ বলেন যে, তিনি ছিলেন হযরত শুআ'য়েব (আঃ)-এর ভ্রাতপুত্র। আবার অন্য কেউ বলেন যে, তিনি হযরত শুআ’য়েব (আঃ)-এর কওমের একজন মুমিন লোক ছিলেন। কেউ কেউ বলেন, হযরত শুআ’য়েব (আঃ)-এর যুগ তো হযরত মূসা (আঃ)-এর যুগের বহু পূর্বের যুগ। কুরআন কারীমে তাঁর কওমের সামনে তাঁর উক্তি বর্ণিত হয়েছেঃ (আরবি)
অর্থাৎ “হযরত লূত (আঃ)-এর কওম তোমাদের থেকে খুব দূরের নয়।” (১১:৮৯) আর কুরআন কারীম দ্বারা এটাও প্রমাণিত যে, হযরত নূত (আঃ)-এর কওম হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর যুগেই ধ্বংস হয়েছিল। আর এটা খুবই স্পষ্ট কথা যে, হযরত ইবরাহীম (আঃ) ও হযরত মূসা (আঃ)-এর যুগের মধ্যে খুবই দীর্ঘদিনের ব্যবধান ছিল। অর্থাৎ প্রায় চারশ' বছরের ব্যবধান, যেমন অধিকাংশ ঐতিহাসিকের উক্তি রয়েছে। হ্যা, তবে কেউ কেউ এই কঠিন ব্যাপারের উত্তর এই দিয়েছেন যে, হযরত শুআ’য়েব (আঃ) দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন। সম্ভবতঃ এই আপত্তিকর কথা হতে রক্ষা পাওয়াই তাদের উদ্দেশ্য। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন। এটাও খেয়াল করা এখানে দরকার যে, যদি এই সম্ভ্রান্ত লোকটি হযরত শুআ’য়েবই (আঃ) হতেন তবে অবশ্যই কুরআন কারীমে এই স্থলে তাঁর নাম পরিস্কারভাবে নেয়া হতো। হাঁ, তবে কোন হাদীসে এসেছে যে, তিনি হযরত শুআ’য়েব (আঃ) ছিলেন। কিন্তু এ হাদীসগুলোর সনদ বিশুদ্ধ নয়। সরই আমরা ওগুলো আনয়ন করবো ইনশাআল্লাহ। বানী ইসরাঈলের কিতাবগুলোতে তার নাম শীরূন বলা হয়েছে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী। হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর পুত্র বলেন যে, শীরূন হযরত শুআ’য়েব (আঃ)-এর ভ্রাতুস্পুত্র ছিলেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি ইয়াসরাবী ছিলেন। ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বলেন যে, একথা ঐ সময় সাব্যস্ত হতো যখন এ ব্যাপারে কোন খবর বর্ণিত হতো এবং এরূপ হয়নি।
ঐ মেয়ে দুটির মধ্যে যে মেয়েটি হযরত মূসা (আঃ)-কে ডাকতে গিয়েছিল সে পিতাকে সম্বোধন করে বললোঃ “হে পিতা! আপনি এ লোকটিকে আমাদের বরী চরানোর কাজে নিযুক্ত করুন! কেননা, উত্তমরূপে কাজ সে-ই করতে পারে যে হয় শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।” পিতা তখন মেয়েকে জিজ্ঞেস করলেনঃ “হে আমার প্রিয় কন্যা! তার মধ্যে যে এ দু’টি গুণ রয়েছে তা তুমি কি করে জানতে পারলে?” উত্তরে মেয়েটি বললোঃ “দশটি শক্তিশালী লোক মিলিতভাবে কূপের মুখের যে পাথরটি সরাতে সক্ষম হতো তা সে একাকী সরিয়ে ফেলেছে। এর দ্বারা অতি সহজেই তার শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। আর তার বিশ্বস্ততার পরিচয় আমি এইভাবে পেয়েছি যে, তাকে সাথে নিয়ে যখন আমি আপনার নিকট আসতে শুরু করি তখন সে পথ চিনে না বলে আমি আগে হই। সে তখন আমাকে বলেঃ “না, না, তুমি আমার পিছনে থাকে। যখন পথ পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে তখন ঐ দিকে তুমি একটি কংকর ছুঁড়ে ফেলবে। তাহলেই আমি বুঝতে পারবো যে, ঐ পথে আমাকে চলতে হবে।”
হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেনঃ “তিন ব্যক্তির মত বোধশক্তি, বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতা আর কারো মধ্যে পাওয়া যায়নি। তারা হলেনঃ (১) হযরত আবু বকর (রাঃ), তার বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতার পরিচয় এই যে, তিনি খিলাফতের জন্যে হযরত উমার (রাঃ)-কে মনোনীত করেন। (২) মিসরের অধিবাসী হযরত ইউসুফ (আঃ)-এর ক্রেতা, যিনি প্রথম দৃষ্টিতেই হযরত ইউসুফ (আঃ)-এর মর্যাদা বুঝে নেন এবং তাঁকে বাড়ী নিয়ে গিয়ে স্বীয় স্ত্রীকে বলেনঃ “সম্মানজনকভাবে এর থাকবার ব্যবস্থা করো।” আর (৩) এই মর্যাদা সম্পন্ন ও সম্রান্ত লোকটির কন্যা, যে হযরত মূসা (আঃ)-কে তাদের কাজে নিয়োগ করার জন্যে তার পিতার নিকট সুপারিশ করেছিল।”
মেয়ের কথা শোনা মাত্রই তার পিতা হযরত মূসা (আঃ)-কে বললেনঃ “আমি আমার এই কন্যাদ্বয়ের একজনকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে চাই। এই শর্তে যে, তুমি আট বছর পর্যন্ত আমার বকরী চরাবে।” মেয়ে দু’টির নাম ছিল সাফুরইয়া এবং লিয়া। মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রঃ) বলেন যে, তাদের দুজনের নাম ছিল সাফুরইয়া ও শারফা এবং শারফাকে লিয়া বলা হতো।
ইমাম আবু হানীফা (রঃ)-এর অনুসারীগণ এ থেকেই দলীল গ্রহণ করেছেন যে, যদি কোন লোক বলেঃ “আমি এই গোলাম দুটির মধ্যে একটিকে একশ’র বিনিময়ে বিক্রী করলাম এবং ক্রেতা তা স্বীকার করে নেয় তবে এই ক্রয়-বিক্রয় শুদ্ধ হবে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।
ঐ সম্ভ্রান্ত লোকটি আরো বললেনঃ “যদি তুমি দশ বছর পূর্ণ কর তবে সেটা তোমার ইচ্ছা। এটা তোমার জন্যে অবশ্যকরণীয় নয়। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনে। আল্লাহ চাইলে তুমি আমাকে সদাচারী পাবে।” ইমাম আওযায়ী (রঃ) এর দ্বারা দলীল গ্রহণ করেছেন যে, যদি কেউ বলেঃ “আমি অমুক জিনিস নগদে দশে এবং বাকীতে বিশে বিক্রী করছি। তবে এই বেচা-কেনা শুদ্ধ হবে। আর ক্রেতার এটা ইচ্ছাধীন থাকবে যে, সে ওটা নগদে দশে কিনবে অথবা বাকীতে বিশে কিনবে। তিনি ঐ হাদীসটিরও এই ভাবার্থ নিয়েছেন যাতে রয়েছে যে, যে ব্যক্তি এক বেচা-কেনায় দু’টি বেচা-কেনা করবে তার জন্যে কমেরটার বেচা-কেনা হবে অথবা সুদ হবে। কিন্তু এ মাযহাবটির ব্যাপারে চিন্তা ভাবনার অবকাশ রয়েছে। যার বিস্তারিত বর্ণনার জায়গা এটা নয়। এসব ব্যাপারে একমাত্র আল্লাহ তা'আলাই সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।
ইমাম আহমাদ (রঃ)-এর অনুসারীরা এ আয়াতটিকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করে বলেছেন যে, পানাহার ও কাপড়ের উপর কাউকেও মজুরী ও কাজে লাগানো জায়েয। এর দলীল হিসেবে সুনানে ইবনে মাজাহ্র একটি হাদীসও রয়েছে। ওটা এই ব্যাপারে যে, কোন মজুরের মজুরী এটা নির্ধারণ করা যে, সে পেটপুরে আহার করবে। এ ব্যাপারে একটি হাদীস আনয়ন করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) সূরায়ে তোয়া-সীন পাঠ করেন। যখন তিনি হযরত মূসা (আঃ)-এর বর্ণনা পর্যন্ত পৌঁছেন তখন বলেনঃ “হযরত মূসা (আঃ) নিজের পেট পূর্ণ করা ও নিজের লজ্জাস্থানকে আবৃত করার জন্যে আট বছর বা দশ বছরের জন্যে নিজেকে চাকুরীতে নিয়োগ করেছিলেন।” এই সনদে এ হাদীসটি দুর্বল। কেননা এর একজন বর্ণনাকারী হলেন মাসলামা ইবনে আলী আল খুশানী আদৃ দিমাশকী। তিনি বর্ণনাকারী হিসেবে দুর্বল। অন্য সনদেও এটা বর্ণিত আছে কিন্তু ওটাও সন্দেহমুক্ত নয়।
হযরত মূসা কালীমুল্লাহ (আঃ) ঐ মহানুভব ব্যক্তির ঐ শর্ত ককূল করে নেন এবং তাঁকে বলেনঃ “আপনার ও আমার মধ্যে এই চুক্তিই রইলো। এ দুটি মেয়াদের কোন একটি আমি পূর্ণ করলে আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকবে। আমরা যে বিষয়ে কথা বলছি আল্লাহ তার সাক্ষী।”
যদিও দশ বছর পূর্ণ করা আইনানুমোদিত কিন্তু ওটা অতিরিক্ত বিষয়, জরুরী নয়। জরুরী হলো আট বছর। যেমন মিনার শেষ দুই দিন সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার নির্দেশ রয়েছে। আর হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত হামযা ইবনে আমর আসলামী (রাঃ)-কে সফরে রোযা রাখা সম্পর্কে তাঁর প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন এবং তিনি অধিকাংশ দিন রোযা রাখতেনঃ “সফরে রোযা রাখা ও না রাখা তোমার ইচ্ছাধীন। ইচ্ছা করলে রাখবে, না করলে না রাখবে।” যদিও অন্য দলীল দ্বারা রোযা রাখাই উত্তম। এখানেও এই দলীলই রয়েছে যে, হযরত মূসা (আঃ) দশ বছরই পূর্ণ করেছিলেন।
হযরত সাঈদ ইবনে জুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হীরাবাসী এক ইয়াহুদী আমাকে জিজ্ঞেস করেঃ “হযরত মূসা (আঃ) আট বছর পূর্ণ করেছিলেন, দশ বছর?” আমি উত্তরে বলিঃ এটা আমার জানা নেই। অতঃপর আমি আরবের খুবই বড় আলেম হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট গমন করি এবং তাকে এটা জিজ্ঞেস করি। তিনি জবাবে বলেনঃ “এ দুটোর মধ্যে যেটা। বেশী ও পবিত্র মেয়াদ সেটাই তিনি পূর্ণ করেন অর্থাৎ তিনি দশ বছর পূর্ণ করেন। আল্লাহর রাসূল যা বলেন তাই করে থাকেন।” (এ হাদীসটি সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে। হাদীসে ফুতুনে রয়েছে যে, ঐ প্রশ্নকারী লোকটি খৃষ্টান ছিল। কিন্তু সহীহ বুখারীতে যা রয়েছে ওটাই বেশী। গ্রহণযোগ্য। এসব ব্যাপার আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন)
হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “আমি হযরত জিবরাঈল (আঃ)-কে জিজ্ঞেস করিঃ হযরত মূসা (আঃ) কোন্ সময় পূর্ণ করেছিলেন? উত্তরে হযরত জিবরাঈল (আঃ) বলেনঃ “ঐ দুই সময়ের মধ্যে যেটা ছিল পরিপূর্ণ ঐ সময়ই তিনি পূর্ণ করেছিলেন।” (এ হাদীসটি ইবনু জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
একটি মুরসাল হাদীসে আছে যে, কোন একজন লোক রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে এটা জিজ্ঞেস করেছিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) জিজ্ঞেস করেছিলেন হযরত জিবরাঈল (আঃ)-কে, হযরত জিবরাঈল (আঃ) জিজ্ঞেস করেছিলেন অন্য ফেরেশতাকে, অন্য ফেরেশতা জিজ্ঞেস করেন আল্লাহ তা'আলাকে এবং আল্লাহ তা'আলা জবাবে বলেনঃ “দুই সময়ের মধ্যে পবিত্র ও পূর্ণতম সময় তিনি পূর্ণ করেছিলেন অর্থাৎ দশ বছর।”
একটি হাদীসে রয়েছে যে, হযরত আবু যার (রাঃ)-এর প্রশ্নের উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন যে, হযরত মূসা (আঃ) দশ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেন। এর পর তিনি একথাও বলেনঃ “যদি তোমাকে জিজ্ঞেস করা হয় যে, মেয়ে দু’টির মধ্যে কোন মেয়েটিকে হযরত মূসা (আঃ) বিয়ে করেছিলেন? তবে তুমি জবাবে বলবেঃ মেয়ে দুটির মধ্যে যে ছোট ছিল তাকেই তিনি বিয়ে করেছিলেন।”
অন্য একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) দীর্ঘ মেয়াদটি পূর্ণ করার কথা বলার পরে বলেন, যখন হযরত মূসা (আঃ) হযরত শুআয়েব (আঃ)-এর নিকট হতে বিদায় গ্রহণ করতে উদ্যত হন তখন স্বীয় স্ত্রীকে বলেনঃ “তোমার আব্বার নিকট হতে কিছু বকরী নিয়ে নাও, যেগুলো দ্বারা আমাদের জীবিকা নির্বাহ হবে।” তাঁর স্ত্রী তখন তার পিতার নিকট কিছু বকরীর আবেদন করেন। তাঁর পিতা ওয়াদা করেন যে, ঐ বছর যতগুলো সাদা-কালো মিশ্রিত বকরীর জন্ম হবে সবই তিনি তাদেরকে দিয়ে দিবেন। হযরত মূসা (আঃ) বকরীগুলোর পেটের উপর দিয়ে স্বীয় লাঠিখানা চালিয়ে দিলেন এবং এর ফলে প্রত্যেকটি বকরী দু'টি করে ও তিনটি করে বাচ্চা প্রসব করলো। আর সবগুলোই হলো সাদা-কালো রঙ মিশ্রিত ওগুলোর বংশ এখনও খোঁজ করলে পাওয়া যেতে পারে। অন্য রিওয়াইয়াতে আছে যে, হযরত শুআ’য়েব (আঃ)-এর সমস্ত বকরী ছিল কারো রঙ এর এবং খুবই সুন্দর। ঐ বছর তার যতগুলো বীর জন্ম হয় সবই হয় খুৎবিহীন, বড় বড় স্তন বিশিষ্ট এবং বেশী দুধদানকারী। এই সমুদয় রিওয়াইয়াত হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রাঃ)-এর উপর নির্ভরশীল, যার। স্মরণশক্তি তেমন প্রখর ছিল না এবং এগুলো মার’ না হওয়ারও আশংকা রয়েছে। যেহেতু অন্য সনদে এটা হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে মাওকূফ রূপে বর্ণিত আছে, তাতে এও রয়েছে যে, ঐ বছর একটি বকরী ছাড়া সমস্ত বকরীর বাচ্চাই হয়েছিল সাদা-কালো মিশ্রিত রঙ-এর, যেগুলোর সবই হযরত মূসা (আঃ) নিয়ে গিয়েছিলেন।
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Are You Sure you want to Delete Pin
“” ?
Add to Collection
Bookmark
Pins
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Audio Settings