Surah Ash Shu'ara Tafseer
Tafseer of Ash-Shu'ara : 1
Saheeh International
Ta, Seen, Meem.
Tafsir Fathul Mazid
Tafseer 'Tafsir Fathul Mazid' (BN)
নামকরণ:
الشُّعَرَا۬ءُ শব্দটি شاعر এর বহুবচন, অর্থ হচ্ছে কবিগণ। এ সূরার ২২৪ নং আয়াতে الشُّعَرَا۬ءُ শব্দটি উল্লেখ রয়েছে, সেখান থেকেই সূরার নামকরণ করা হয়েছে।
সূরার শুরুতেই আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সান্ত্বনা দিচ্ছেন, কাফিররা ঈমান আনবে না তাতে আফসোস করা ও চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। তারপর মূসা ও হারূন (عليهم السلام)-এর ফির‘আউনের কাছে তাওহীদের দাওয়াত, দাওয়াত পেয়ে ফির‘আউনের অবস্থান, জাদুকরদের সামনে মূসা (عليه السلام)-এর সাপের মু‘জিযাহ প্রদর্শন ও জাদুকরদের ঈমান আনয়ন, ঈমানদারদের সাথে নিয়ে সমুদ্র পারাপার, ইবরাহীম (عليه السلام) ও তাঁর মূর্তিপূজক জাতির বর্ণনা, কিয়ামতের দিন বিশুদ্ধ অন্তরের অধিকারীদের সফলতা, নূহ (عليه السلام) ও তাঁর জাতির কাছে তাওহীদের দাওয়াত, হূদ (عليه السلام), সালেহ (عليه السلام), লূত (عليه السلام), শু‘আইব (عليه السلام) ও তাঁদের জাতির বর্ণনা দিয়ে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর নিকটাত্মীয়দের প্রতি আল্লাহ তা‘আলার আযাবের ভয় প্রদর্শন করার নির্দেশ দিয়েছেন, তারপর কবিদের অবস্থা তুলে ধরেছেন।
১-৯ নং আয়াতের তাফসীর:
طٰسٓمّ (ত্বা-সীন-মীম) এ জাতীয় “হুরূফুল মুক্বাত্বআত” বা বিচ্ছিন্ন অক্ষর সম্পর্কে সূরা বাকারার শুরুতে আলোচনা করা হয়েছে। এগুলোর আসল উদ্দেশ্য একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন।
শুরুতেই আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, এগুলো সুস্পষ্ট কুরআনের আয়াত অর্থাৎ এতে হালাল-হারাম, হক-বাতিল সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। যেগুলোর ব্যাপারে কোন অস্পষ্টতা নেই। যাতে মানুষ কোন সংশয় ও সন্দেহে না থাকে।
بَاخِعٌ শব্দটি بخع থেকে উদ্ভূত, এর অর্থ যবেহ করতে গিয়ে গর্দানের শিরা পর্যন্ত পৌঁছা। এখানে অর্থ নিজেকে কষ্ট ও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া। অর্থাৎ কাফিররা ঈমান আনছে না এজন্য আফসোস ও চিন্তিত হয়ে নিজেকে হয়তো ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছো। আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন, এমন করার কোনই প্রয়োজন নেই। হিদায়াতের মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা, দাওয়াতি কাজ যা করার তুমি তা করে যাচ্ছ, এটাই তোমার কাজ। এ জন্য আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, ‘আমি ইচ্ছা করলে আকাশ হতে তাদের নিকট এক নিদর্শন প্রেরণ করতাম’ অর্থাৎ প্রকাশ্য মু‘জিযাহ প্রদান করতেন, ফলে তাদের মাথা বিনয়ের সাথে নত হয়ে যেত।
আল্লাহ বলেন:
(وَلَوْ شَا۬ءَ رَبُّكَ لَاٰمَنَ مَنْ فِي الْأَرْضِ كُلُّهُمْ جَمِيْعًا ط أَفَأَنْتَ تُكْرِهُ النَّاسَ حَتّٰي يَكُوْنُوْا مُؤْمِنِيْنَ)
“তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করলে পৃথিবীতে যারা আছে তারা সকলেই ঈমান আনত; তবে কি তুমি মু’মিন হবার জন্য মানুষের ওপর জবরদস্তি করবে?” (সূরা ইউনুস ১০:৯৯) যেহেতু যখনই তাদের কাছে কোন উপদেশ বাণী এসেছে তখনই তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, সুতরাং তারা শাস্তির হকদার। তাদের ভাগ্যে ঈমান নেই। তারা আমার নিদর্শন নিয়ে যে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করেছে তার ফলাফল অচিরেই পাবে। এ সম্পর্কে সূরা কাহফের ৬ নং ও সূরা হিজরের ৮৮ ও ৯৭ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা কাউকে কোন কিছু করতে বাধ্য করেন না। যার ইচ্ছা হয় ঈমান আনবে আবার যার ইচ্ছা হয় ঈমান আনবে না। এটা মানুষের ইচ্ছাধীন করা হয়েছে। যে ঈমান নিয়ে আসবে সে তার প্রতিদানস্বরূপ জান্নাত লাভ করবে। আর যে ঈমান আনবে না বরং কুফরী করবে তারা তাদের কুফরীর প্রতিদান অচিরেই বুঝতে পারবে। সুতরাং ঈমান আনা না আনা একান্তই মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়। কোন জোর-জবরদস্তির বিষয় নয়।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর একটি ক্ষমতার কথা বর্ণনা করেছেন, তিনি জমিন হতে মানুষের জন্য সর্বপ্রকার উদ্ভিদ উদ্গত করেছেন। এ সম্পর্কে সূরা নাহলের ১০ ও ১১ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
সুতরাং আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান। আর তিনিই একমাত্র ইবাদতের হকদার।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. যারা ঈমান আনবে তারা জান্নাতে যাবে আর যারা ঈমান আনবে না তারা জাহান্নামে যাবে।
২. আল্লাহ তা‘আলা কাউকে কোন কাজ করার জন্য বাধ্য করেন না।
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Are You Sure you want to Delete Pin
“” ?
Add to Collection
Bookmark
Pins
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Audio Settings