Surah Al Furqan Tafseer
Tafseer of Al-Furqan : 42
Saheeh International
He almost would have misled us from our gods had we not been steadfast in [worship of] them." But they are going to know, when they see the punishment, who is farthest astray in [his] way.
Tafsir Fathul Mazid
Tafseer 'Tafsir Fathul Mazid' (BN)
৪১-৪৪ নং আয়াতের তাফসীর:
কাফির-মুশরিকরা রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করত। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَإِذَا رَاٰكَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْآ إِنْ يَّتَّخِذُوْنَكَ إِلَّا هُزُوًا ط أَهٰذَا الَّذِيْ يَذْكُرُ اٰلِهَتَكُمْ ج وَهُمْ بِذِكْرِ الرَّحْمٰنِ هُمْ كٰفِرُوْنَ)
“কাফিররা যখন তোমাকে দেখে তখন তারা তোমাকে কেবল বিদ্রুপের পাত্ররূপেই গ্রহণ করে। তারা বলে, ‘এ-ই কি সে, যে তোমাদের দেব-দেবীগুলোর সমালোচনা করে?’ অথচ তারাই তো ‘রাহ্মান’-এর উল্লেখের বিরোধিতা করে।” (সূরা আম্বিয়া ২১:৩৬) আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, তোমরা রাসূলকে নিয়ে ঠাট্টা করবে এজন্য তো রাসূল প্রেরণ করিনি। বরং তোমাদের কর্তব্য তাঁর অনুসরণ করবে, তাঁকে মেনে চলবে। কিন্তু তা না করে তোমরা তার বিপরীত করছ।
আর তারা তাদের শির্কী কার্যকলাপের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিল। যেমন তাদের কথা:
(وَانْطَلَقَ الْمَلَأُ مِنْهُمْ أَنِ امْشُوْا وَاصْبِرُوْا عَلٰٓي اٰلِهَتِكُمْ)
“আর তাদের নেতারা এ কথা বলে চলে যায় যে, তোমরা চলে যাও এবং অবিচল চিত্তে তোমাদের মা‘দূদের পূজায় লেগে থাক এবং নিজেদের উপাস্যদের ব্যাপারে ধৈর্যধারণ কর।” (সূরা স্ব-দ ৩৮:৬)
অর্থাৎ শরীয়ত বিরোধী কাজে প্রবৃত্তির অনুসরণ এক প্রকার র্শিক। ইবনু আববাস (رضي الله عنه) বলেন: শরীয়ত বিরোধী কার্যকলাপ করা, নিজের মনমত চলা একপ্রকার মূর্তিপূজা। তারপর তিনি এ আয়াত তেলাওয়াত করেন। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(أَفَمَنْ زُيِّنَ لَه۫ سُوْٓءُ عَمَلِه۪ فَرَاٰهُ حَسَنًا ط فَإِنَّ اللّٰهَ يُضِلُّ مَنْ يَّشَا۬ءُ وَيَهْدِيْ مَنْ يَّشَا۬ءُ ﱸﺘ فَلَا تَذْهَبْ نَفْسُكَ عَلَيْهِمْ حَسَرٰتٍ ط إِنَّ اللّٰهَ عَلِيْمٌۭ بِمَا يَصْنَعُوْنَ)
“যাকে তার খারাপ কাজ সুন্দর করে দেখানো হয় এবং সে তাকে উত্তম মনে করে (সে কি তার সমান যে মন্দকে মন্দ মনে করে)? নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন। অতএব তুমি তাদের জন্য অনুতাপ করে নিজেকে ধ্বংস করবে না। তারা যা করে আল্লাহ তা‘আলা তা অবশ্যই জানেন।” (সূরা ফাতির ৩৫:৮)
এদের সম্পর্কেই আল্লাহ তা‘আলা বলেন যে, এরা হচ্ছে চতুস্পদ জন্তুর চেয়েও অধম। কারণ চতুষ্পদ জন্তুকে যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে তা তারা শুনে ও মেনে চলে। কিন্তু এ সকল মানুষ তাদেরকে যে উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে তা ভুলে গিয়ে শির্কী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েছে। তাই ওরা সবচেয়ে নিকৃষ্ট। আল্লাহ তা‘আলা এ সম্পর্কে বলেন:
(وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيْرًا مِّنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ ﺘ لَهُمْ قُلُوْبٌ لَّا يَفْقَهُوْنَ بِهَا ز وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَّا يُبْصِرُوْنَ بِهَا ز وَلَهُمْ اٰذَانٌ لَّا يَسْمَعُوْنَ بِهَا ط أُولٰ۬ئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ ط أُولٰ۬ئِكَ هُمُ الْغٰفِلُوْنَ)
“আমি তো বহু জিন ও মানবকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি, তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তারা তা দ্বারা উপলব্ধি করে না, তাদের চক্ষু আছে কিন্তু তারা তা দ্বারা দেখে না, এবং তাদের কর্ণ আছে কিন্তু তারা তা দ্বারা শ্রবণ করে না, তারাই পশুর ন্যায়, বরং তারা অধিক বিভ্রান্ত। তারাই গাফিল।” (সূরা আ‘রাফ ৭:১৭৯)
তাই প্রতিটি মানুষের উচিত আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতিকে যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন সে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে কার্য সম্পাদন করা ও যথাযথভাবে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করা।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. আল্লাহ তা‘আলা এবং তাঁর রাসূলের কোন বিষয়ে হাসি-তামাশা করা যাবে না, তা করলে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে।
২. শির্কী কার্যকলাপ পরিহার করতে হবে।
৩. প্রবৃত্তির অনুসরণ করার অর্থ হলো তাকে একপ্রকার মা‘বূদ বানিয়ে নেয়া।
৪. একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করতে হবে।
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Are You Sure you want to Delete Pin
“” ?
Add to Collection
Bookmark
Pins
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Audio Settings