Surah Al Mu'minun Tafseer
Tafseer of Al-Mu'minun : 62
Saheeh International
And We charge no soul except [with that within] its capacity, and with Us is a record which speaks with truth; and they will not be wronged.
Tafsir Fathul Mazid
Tafseer 'Tafsir Fathul Mazid' (BN)
৬২-৬৭ নং আয়াতের তাফসীর:
(وَلَا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا)
এখানে বলা হচ্ছে যে, আল্লাহ তা‘আলা মানুষের সাধ্যাতীত কোন বিষয় চাপিয়ে দেন না। বরং মানুষের পক্ষে যতটুকু সম্ভব ততটুকুই তার ওপর অর্পণ করা হয়। এ সম্পর্কে সূরা বাকারার শেষ আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
(وَلَدَيْنَا كِتٰبٌ يَّنْطِقُ....)
‘এবং আমার নিকট আছে এক কিতাব যা সত্য ব্যক্ত করে’ এখানে কিতাব বলতে মানুষের আমলের কিতাব বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ মানুষরা দুনিয়াতে যা আমল করে তা একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়। কিয়ামতের দিন সে কিতাব মানুষের আমল সম্পর্কে কথা বলবে। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(هٰذَا كِتٰبُنَا يَنْطِقُ عَلَيْكُمْ بِالْحَقِّ ط إِنَّا كُنَّا نَسْتَنْسِخُ مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ)
“এ হল আমার কিতাব, এটা তোমাদের বিরুদ্ধে সত্য বলবে। তোমরা যা করতে তা আমি অবশ্যই লিপিবদ্ধ করিয়েছিলাম।” (সূরা জাসিয়া ৪৫:২৯)
সুতরাং মানুষের কোন আমল সেদিন লুক্কায়িত থাকবে না। তারা যা আমল করেছে, তাই সেখানে প্রকাশ পাবে, আর ঐ ভিত্তিতেই তাদেরকে প্রতিফল দেয়া হবে। কারো প্রতি কোন প্রকার জুলুম করা হবে না ।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা করেন, তাদেরকে যে সকল বিধি-বিধান দেয়া হয়েছে এসব থেকে জ্ঞানহীনতার কারণে তারা বিরত থাকে এবং এর পরিবর্তে তারা আরো অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়। তারা একটু চিন্তা-ভাবনা করে দেখে না, কী করছে। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَذَرْنِيْ وَالْمُكَذِّبِيْنَ أُولِي النَّعْمَةِ وَمَهِّلْهُمْ قَلِيْلًا - إِنَّ لَدَيْنَآ أَنْكَالًا وَّجَحِيْمًا)
“ছেড়ে দাও আমাকে এবং প্রাচুর্য্যবান মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের; আর কিছুকালের জন্য তাদেরকে অবকাশ দাও। নিশ্চয়ই আমার নিকট আছে শক্ত বেড়ী ও জ্বলন্ত আগুন।” (সূরা মুযযামমিল ৭৩:১১-১২)
مُتْرَفِيْهِمْ অর্থ নেতৃস্থানীয়, ক্ষমতাসীন। আযাব নেতৃস্থানীয় ও ক্ষমতাহীন সবার ওপরে আসবে। কিন্তু এখানে নেতৃস্থানীয়দের বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কেন? কারণ সাধারণত সমাজের নেতৃত্ব এদের হাতেই থাকে। এরা যেভাবে চায় জাতির মুখ ফেরাতে পারে। যদি তারা আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্যতার পথ অবলম্বন করে ও তার ওপর অবিচল থাকে, তাহলে তাদের দেখা-দেখি সমাজের মানুষও তাদের অনুসরণ করে এবং তওবা ও অনুশোচনার পথ ধরে না। এখানে নেতৃত্ব বলতে সে সব কাফিরদেরকে বুঝানো হয়েছে, যাদেরকে ধন-দৌলতের প্রাচুর্য ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা সমৃদ্ধ করে অবকাশ দেয়া হয়েছে। যেমন এ শ্রেণির কিছু আয়াত পূর্বেও উল্লিখিত হয়েছে।
এমনকি যখন তাদেরকে তাদের এ সকল অপরাধের কারণে শাস্তি প্রদান করা হবে তখন তারা তথায় চিৎকার করতে থাকবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(كَمْ أَهْلَكْنَا مِنْ قَبْلِهِمْ مِّنْ قَرْنٍ فَنَادَوْا وَّلَاتَ حِيْنَ مَنَاصٍ)
“তাদের পূর্বে আমি বহু সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছি; তখন তারা আর্তনাদ করেছিল, কিন্তু তখন মুক্তি লাভের কোন সময় ছিল না।” (সূরা স্ব-দ ৩৮:৩)
তখন তাদেরকে নিষেধ করা হবে যে, আজকের দিনে তোমরা চিৎকার আর্তনাদ কর না। এখন চিৎকার করে কোনই লাভ নেই। কারণ তোমাদের নিকট আমার বিধি-বিধান আলোচনা করা হত, আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হত, তখন তোমরা তা থেকে বিমুখ ছিলে এবং এ বিষয়ে তোমরা অহঙ্কার করতে। সুতরাং আজকের দিনে আর্তনাদ করে কোনই লাভ হবে না। আজকে বরং এর জন্য তোমাদেরকে শাস্তি ভোগ করতে হবে। কারণ তোমরা গর্ব-অহঙ্কার করে আল্লাহ তা‘আলার আয়াতকে অস্বীকার করতে। আর আজকের দিনে তোমাদের এ শাস্তি কমানোও হবে না।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. সাধ্যের বাইরে মানুষকে আল্লাহ তা‘আলা কোন কাজ চাপিয়ে দেন না।
২. মৃত্যুর পর অনুশোচনা করে কোন লাভ হবে না।
৩. গর্ব-অহঙ্কার করা যাবে না, তা করলে সৎ আমল নষ্ট হয়ে যায়।
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Are You Sure you want to Delete Pin
“” ?
Add to Collection
Bookmark
Pins
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Audio Settings