Surah Al Hijr Tafseer
Tafseer of Al-Hijr : 86
Saheeh International
Indeed, your Lord - He is the Knowing Creator.
Tafsir Fathul Mazid
Tafseer 'Tafsir Fathul Mazid' (BN)
৮৫-৮৬ নং আয়াতের তাফসীর:
অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আকাশ-জমিন অযথা সৃষ্টি করেননি। তিনি কিয়ামত সংঘটিত করে সৎকর্মপরায়ণ ব্যক্তিদেরকে উত্তম প্রতিদান দেবেন এবং যারা অন্যায় করবে তাদের কর্মের উপযুক্ত প্রতিদান দেবেন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَلِلّٰهِ مَا فِي السَّمٰوٰتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ لا لِيَجْزِيَ الَّذِيْنَ أَسَا۬ءُوْا بِمَا عَمِلُوْا وَيَجْزِيَ الَّذِيْنَ أَحْسَنُوْا بِالْحُسْنٰي)
“আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা আল্লাহরই। যাতে করে যারা মন্দ আমল করে তাদেরকে তিনি দেন মন্দ ফল এবং যারা সৎ আমল করে তাদেরকে তিনি দেন উত্তম প্রতিদান।” (সূরা নাজম ৫৩:৩১)
আল্লাহ তা‘আলা অনর্থক আকাশ-জমিন সৃষ্টি করেছের এরূপ ধারণা কাফিরদের।
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:
(وَمَا خَلَقْنَا السَّمَا۬ءَ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا بَاطِلًا ط ذٰلِكَ ظَنُّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا ج فَوَيْلٌ لِّلَّذِيْنَ كَفَرُوْا مِنَ النَّارِ)
“আর আমি আসমান, জমিন এবং উভয়ের মধ্যে অবস্থিত কোন কিছুই অনর্থক সৃষ্টি করিনি; এরূপ ধারণা তো তাদের যারা কাফির। সুতরাং কাফিরদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের দুর্ভোগ।” (সূরা সোয়াদ ৩৮:২৭)
আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:
(أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنٰكُمْ عَبَثًا وَّأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُوْنَ)
“তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে না?’’ (সূরা মু’মিনুন ২৩:১১৫-১১৬) আর কিয়ামত অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(إِنَّ السَّاعَةَ اٰتِيَةٌ أَكَادُ أُخْفِيْهَا لِتُجْزٰي كُلُّ نَفْسٍۭ بِمَا تَسْعٰي)
“কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী, আমি এটা গোপন রাখতে চাই যাতে প্রত্যেকেই নিজ কর্মানুযায়ী ফল লাভ করতে পারে।” (সূরা ত্বহা ২০:১৫)
এরূপ সূরা হাজ্জের ৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে।
অতএব নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, কিয়ামত সংঘটিত হবেই। কাফিররা যতই অস্বীকার করুক না কেন কেউ তা প্রতিহত করতে পারবে না।
(فَاصْفَحِ الصَّفْحَ الْجَمِيْلَ....)
এখানে বলা হচ্ছে যে, কাফির-মুশরিকরা যতই অবাধ্যতামূলক আচরণ করুক না কেন, তিনি যেন তাদেরকে ক্ষমা করে দেন।
যেমন আল্লাহ তা‘আলা অন্য জায়গায় বলেন:
(فَاصْفَحْ عَنْهُمْ وَقُلْ سَلٰمٌ ط فَسَوْفَ يَعْلَمُوْنَ )
“সুতরাং তুমি তাদেরকে উপেক্ষা কর এবং বল: সালাম; তারা শীঘ্রই জানতে পারবে।” (সূরা যুখরুফ ৪৩:৮৯)
অতএব তুমি তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করে যাও, তাদের কী পরিণাম তা তারা অচিরেই জানতে পারবে। কতক আলেম বলেছেন: আর এটা ছিল জিহাদ ফরয হওয়ার পূর্বে। সুতরাং জিহাদ ফরয হওয়ার পর এ বিধান রহিত হয়ে গেছে।
هُوَ الْخَلَّاقُ الْعَلِيْمُ...))
এখানে আল্লাহ তা‘আলার ক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, আকাশে ও জমিনে তাঁকে অপারগ করার মত কোন কিছুই নেই। তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। তিনি মানুষকে প্রথমবার যেমন সৃষ্টি করেছেন তেমনি দ্বিতীয় বার হিসাব-নিকাশের জন্য সৃষ্টি করবেন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(قُلْ يُحْيِيْهَا الَّذِيْٓ أَنْشَأَهَآ أَوَّلَ مَرَّةٍ ط وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيْمُ)
“বলুন! তিনিই এগুলোকে আবার জীবিত করবেন, যিনি তা প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন। আর যিনি সর্বপ্রকার সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন।” (সূরা ইয়াসীন ৩৬:৭৯)
সুতরাং এমন কোন কাজ নেই যা আল্লাহ তা‘আলার কাছে অসম্ভব, তিনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. আকাশ মণ্ডলী ও পৃথিবী অযথা সৃষ্টি করা হয়নি।
২. মানুষের সাথে উত্তম ব্যবহার করতে হবে যদিও সে একজন অসৎ লোক হয়।
৩. আল্লাহ তা‘আলাই সকল ক্ষমতার অধিকারী, তাঁর উপর কোনই ক্ষমতাবান নেই।
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Are You Sure you want to Delete Pin
“” ?
Add to Collection
Bookmark
Pins
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Audio Settings