Surah Ibrahim Tafseer
Tafseer of Ibrahim : 7
Saheeh International
And [remember] when your Lord proclaimed, 'If you are grateful, I will surely increase you [in favor]; but if you deny, indeed, My punishment is severe.' "
Tafsir Fathul Mazid
Tafseer 'Tafsir Fathul Mazid' (BN)
৬-৮ নং আয়াতের তাফসীর:
(وَإِذْ قَالَ مُوْسٰي...)
পূর্বের আয়াতে মূসা (عليه السلام) ও বানী ইসরাঈলদেরকে প্রদত্ত নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার পর অত্র আয়াতে কয়েকটি নেয়ামতের বিবরণ দেয়া হচ্ছে। তা হল ফির‘আউন ও তার ক্ষমতাসীন দল বানী ইসরাঈলদেরকে নিকৃষ্টতম শাস্তি দিত, দাস বানিয়ে রাখত, ছেলেদেরকে জবাই করে ফেলত আর মেয়েদেরকে জীবিত রাখত। আল্লাহ তা‘আলা তাদের হাত থেকে বানী ইসরাঈলদেরকে মুক্তি দিয়েছেন। এটা আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে একদিক থেকে যেমন পরীক্ষা ছিল তেমনি অনুগ্রহও ছিল। এ সম্পর্কে সূরা বাক্বারার ৪৯ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
(وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ...)- تَأَذَّنَ
অর্থ ঘোষণা দেয়া, জানিয়ে দেয়া। অর্থাৎ আল্লাহ জানিয়ে দিলেন যদি তোমরা আমার নেয়ামত পেয়ে শুকরিয়া আদায় কর তাহলে আমার নেয়ামত ও কৃতজ্ঞাতর পুরস্কার আরো বাড়িয়ে দেব। আর যদি কুফরী কর তথা নেয়ামত অস্বীকার কর, দাবী কর এটা আমার যোগ্যতায় পেয়েছি, আমার বাপ-দাদাদের থেকে পেয়েছি, আল্লাহর নেয়ামত বলতে কিছু নেই, আমার প্রচেষ্টা বা বাপ-দাদা না থাকলে এসব হতো না তাহলে জেনে রেখ, আল্লাহর শাস্তি বড় কঠিন। তাই মানুষের উচিত নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা ও ভাল-মন্দ সর্বাবস্থায় الحمد لله (আল হামদুলিল্লাহ) পাঠ করা এবং অকৃতজ্ঞ হওয়া থেকে বিরত থাকা। উল্লেখ্য যে, অধিকাংশ নারীরাই তাদের স্বামীর অকৃতজ্ঞ।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিরাজের রাতে অধিকাংশ নারীদেরকে জাহান্নামে দেখতে পান। কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: তারা স্বামীর অকৃতজ্ঞ, সারা বছর তাদের সাথে ভাল আচরণ করেও কোন দিন সামান্য কিছুর অভাব হলেই বলে, আমি তোমার কাছে কোন দিন সুখ পায়নি। (সহীহ বুখারী হা: ২৯, মুসলিম হা: ৯০৭)
তাই মূসা (عليه السلام) তাঁর জাতিকে সম্বোধন করে বলেন: শুধু তোমরা নও, সারা পৃথিবীর মানুষ যদি আল্লাহ তা‘আলার সাথে কুফরী করে, আল্লাহ তা‘আলাকে অস্বীকার করে, আল্লাহ তা‘আলার নেয়ামতকে অস্বীকার করে তাহলেও আল্লাহ তা‘আলার কিছু আসে যায় না। তিনি পৃথিবীবাসী থেকে অমুখাপেক্ষী, কেননা আল্লাহ তা‘আলার প্রতি বিশ্বাস করা, তাঁর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার অর্থ হল নিজের উপকার করা, নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া। পক্ষান্তরে আল্লাহ তা‘আলার সাথে কুফরী করা হল নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারা।
হাদীসে কুদসীতে এসেছে: আল্লাহ তা‘আলা বলেন, হে আমার বান্দারা! তোমাদের পূর্বের ও পরের মানব ও দানব সকলেই যদি আমার বান্দাদের মধ্যে সর্বাধিক তাকওয়াবান একজন ব্যক্তির হৃদয়ের মত হয়ে যায়, তাহলে আমার রাজত্বের সামান্য বাড়বে না। হে আমার বান্দারা! তোমাদের পূর্বের ও পরের মানব ও দানব সকলেই যদি আমার বান্দাদের মধ্যে সর্বাধিক পাপীষ্ট একজন ব্যক্তির হৃদয়ের মত হয়ে যায় তাহলে আমার রাজত্বের সামান্য কমবে না। তোমাদের পূর্বের ও পরের মানব ও দানব সকলেই যদি এক জায়গায় একত্রিত হয়ে আমার কাছে চায় আর আমি তাদের সকল চাহিদা পূরণ করি, তাহলেও আমার রাজত্বের সামান্য কমবে না, তবে সমুদ্রে সুঁই ডুবিয়ে তা তুললে যতটুকু পানি সমুদ্র থেকে কমে ততটুকু কমবে। (সহীহ মুসলিম হা: ২৫৭৭)
সুতরাং সারা বিশ্বের মানুষ মিলেও যদি আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর দেয়া বিধানের প্রতি কুফরী করে তাতে আল্লাহ তা‘আলার কিছুই যায় আসে না। আল্লাহ তা‘আলা এগুলো থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। তাই অকৃতজ্ঞ হওয়া থেকে বেঁচে থাকতে হবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কৃতজ্ঞতা স্বীকার করলে নেয়ামত বৃদ্ধি করে দেয়া হয় আর কুফরী করলে তার জন্য শাস্তির অধিকারী হতে হয় এবং নেয়ামতও কমে যায়।
২. মানুষের ঈমান আনা ও কুফরী করাতে আল্লাহ তা‘আলার কোন লাভ বা ক্ষতি নেই।
৩. আল্লাহ তা‘আলা যাবতীয় জিনিস থেকে অভাব মুক্ত।
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Are You Sure you want to Delete Pin
“” ?
Add to Collection
Bookmark
Pins
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Audio Settings