Surah Yunus Tafseer
Tafseer of Yunus : 73
Saheeh International
And they denied him, so We saved him and those with him in the ship and made them successors, and We drowned those who denied Our signs. Then see how was the end of those who were warned.
Tafsir Fathul Mazid
Tafseer 'Tafsir Fathul Mazid' (BN)
৭১-৭৩ নং আয়াতের তাফসীর:
পূর্ববর্তী আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা অস্বীকারকারীদের অবস্থা বর্ণনা করার পর এখানে পূর্ববর্তী ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি জাতি, তারা হল নূহ
(عليه السلام)-
এর জাতি, তাদের কিছু কথা বর্ণনা করছেন, যাতে এরা শিক্ষা নিতে পারে। আল্লাহ তা‘আলা বলছেন হে নাবী! তাদের কাছে নূহ
(عليه السلام)
-এর জাতির ঘটনা শোনাও। তারা তাদের নাবীর অবাধ্য হয়েছিল ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে কিভাবে ধ্বংস করেছেন? সুতরাং তাদের থেকে তোমাদের শিক্ষা নিয়ে সতর্ক হওয়া উচিত। তোমাদের অবাধ্যতার জন্য যেন এরূপ শাস্তি আক্রান্ত না করে। ঘটনা এই যে, নূহ
(عليه السلام)
যখন তাঁর জাতিকে বললেন: যদি তোমাদের কাছে আমার অবস্থান ও আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শন দিয়ে দাওয়াত দেয়া ভারী মনে হয় তাহলে জেনে রেখ আমি এটাকে মোটেই গ্রাহ্য করি না। আমি শুধু আল্লাহ তা‘আলার ওপর নির্ভর করি, তোমাদের কাছে কঠিন বোধ মনে হোক আর নাই হোক আমি আমার প্রচার কাজ চালিয়ে যাব। তোমরা এবং তোমাদের বাতিল মা‘বূদরা সবাই একমত হয়ে যাও এবং নিজেদের চেষ্টার কোন ত্র“টি না করে সবদিক দিয়ে নিজেদেরকে দৃঢ় করে নাও। অতঃপর তোমাদের যদি বিশ্বাস থাকে যে, তোমরাই হক পথে রয়েছো, তাহলে আমার ব্যাপারে তোমাদের সিদ্ধান্ত কার্যকরী করে ফেলো, আমাকে অল্প সময়ের জন্যও অবকাশ দিয়ো না। তথাপি তোমরা জেনে রেখ আমি তোমাদেরকে ভয় করি না, কেননা আমি জানি যে, তোমাদের অনুমানের ভিত্তি কোন কিছুর ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়।
আর যদি তোমরা জানা সত্বেও মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে আমি তো তোমাদের কাছে কোন বিনিময় চাই না যে, তোমরা হয়তো বলবে নবুওয়াতের দাবী করে আমার উদ্দেশ্য হল ধন-সম্পদ অর্জন করা। আমার প্রতিদান একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই নিকট। তিনিই আমার প্রতিদান দেবেন। আমাকে শুধু নির্দেশ দেয়া হয়েছে মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হবার জন্য। নূহ
(عليه السلام)
-এর এ কথা থেকে বুঝা যায় যে, সকল নাবীদের ধর্মই এক ছিল। যদিও তার পদ্ধতি ভিন্ন ছিল।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَّمِنْهَاجًا)
“আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছি একটি নির্দিষ্ট শরীয়ত ও একটি নির্দিষ্ট পথ।” (সূরা মায়িদাহ ৫:৪৮)
আর সেই ধর্ম হল ইসলাম। এ ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে সূরা বাক্বারা ১৩১-১৩২, আ‘রাফ ১২৬, মায়িদাহ ৪৮, ১১১ এবং আনয়াম ১৬২-১৬৩ নং আয়াতে।
এই সমস্ত নসীহত শোনার পরও যারা ঈমান আনেনি আমি তাদেরকে মহাপ্লাবন দ্বারা ধ্বংস করে দিয়েছি। আর যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে আমি নৌকায় আরোহণ করে বাঁচিয়ে দিয়েছি। নিমজ্জিতদের মধ্যে নূহ
(عليه السلام)
-এর এক পুত্রও ছিল। সুতরাং তুমি তোমার জাতিকে তাদেরও দৃষ্টান্ত বর্ণনা করে শোনাও যে, অস্বীকারকারীদের পরিণতি কেমন হয়েছিল।
নূহ (عليه السلام)
-এর সম্প্রদায়ের কথা বর্ণনা করে শোনানোর মাধ্যমে আরো দু‘টো জিনিস অর্জন হবে।
১. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সান্ত্বনা ও ধৈর্যের ওপর অটল থাকার উৎসাহ প্রদান করা।
২. মুশরিকদেরকে সতর্ককরণ যদি তারা এই শির্ক ও নাফরমানির কাজে লিপ্ত থাকে তাহলে অন্যদের ন্যায় তাদের ওপরও শাস্তি আবশ্যক হয়ে যাবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে হবে ও আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা করতে হবে।
২. অস্বীকারকারীদের পরিণতি খুবই মন্দ।
৩. যারা আল্লাহ তা‘আলার দিকে ডাকে তাদের প্রতিদান আল্লাহ তা‘আলাই দেবেন।
৪. পূর্ববর্তীদের বৃত্তান্ত বর্ণনা করার মাধ্যমে পরবর্তীদেরকে শিক্ষা দেয়া অন্যতম একটি উত্তম নীতি।
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Be our beacon of hope! Your regular support fuels our mission to share Quranic wisdom. Donate monthly; be the change we need!
Are You Sure you want to Delete Pin
“” ?
Add to Collection
Bookmark
Pins
Social Share
Share With Social Media
Or Copy Link
Audio Settings